Published : 05 Dec 2025, 02:42 PM
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এক নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ওই নৌকায় মাদকপাচার হচ্ছিল বলে তাদের অভিযোগ। যদিও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়নি তারা।
যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে এভাবে তাদের ভাষায় ‘মাদকবাহী নৌকায়’ একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় এরই মধ্যে অন্তত ৮৭ জনের প্রাণ গেছে বলে প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলছে এনডিটিভি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেপ্টেম্বরের এমন এক হামলার জন্য ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান উভয় দলের দিক থেকেই বেশ চাপের মুখে পড়েন।
ওই ঘটনায় প্রথমবার হামলা চালানোর পর বিধ্বস্ত একটি নৌযানে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে প্রথমবারের হামলায় বেঁচে যাওয়া দুজন মারা পড়েন।
এ ঘটনা ‘সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এমন সমালোচনার পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় আঘাতের নির্দেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেননি, দিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্র্যাডলি, যিনি ওই অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবারের হামলার খবর আসার আগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ক্যাপিটল হিলে এক গোপন ব্রিফিং পান, যেখানে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের ওই হামলার বিস্তৃত ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। ওই ফুটেজের সামান্য অংশ বাইরে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, তারা কার্যত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে যুদ্ধে আছে। এজন্যই প্রেসিডেন্ট ক্যারিবিয়ানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরীসহ বিপুল সংখ্যক যুদ্ধযান ও সেনা মোতায়েন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের দেশে মাদক ঢোকা বন্ধেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের অধিকাংশের ধারণা, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন দেশটির আশপাশে বিপুল সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে এবং নৌযানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
কারাকাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে মাদুরোকে উৎখাত করে কোনো ‘পুতুল সরকার’ বসানো এবং ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া।