০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আয়নায় নিজের রূপ দেখেই মুগ্ধ! পলাতক ময়ূর ধরতে পাতা হল ‘আয়না ফাঁদ’

অস্ট্রেলিয়ায় এক দম্পতির বাথরুমে ঢুকে আয়নায় নিজের প্রতিফলন দেখে মুগ্ধ হয় এক পলাতক ময়ূর। তাকে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে অভিনব এই ফাঁদ পাতেন প্রতিবেশীরা।

আয়নায় নিজের রূপ দেখেই মুগ্ধ! পলাতক ময়ূর ধরতে পাতা হল ‘আয়না ফাঁদ’

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 08:19 PM

Updated : 03 Nov 2026, 08:19 PM

আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে বাথরুমে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিল এক ময়ূর। উদ্ধারকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিলেও নিজের মালিকের কাছে আর ফেরা হয়নি পাখিটির।

তবে লোকালয়ে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো সেই শৌখিন ময়ূরকে ধরে মালিকের কাছে ফেরাতে পাতা হয়েছে বিশালাকার এক ‘আয়না ফাঁদ’। অভিনব এই ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে।

সেখানকার বাসিন্দা জিওফ ও ডেলউইন ব্যালানটাইন দম্পতি সন্ধ্যায় কফি খেতে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বাথরুমে যেতেই হতবাক হয়ে যান ডেলউইন।

তিনি দেখতে পান, বাথরুমের বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গভীর মুগ্ধতায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে এক পূর্ণবয়স্ক ময়ূর। প্রথমে ঘরে চোর বা অনাহূত কেউ ঢুকেছে ভেবে চিৎকার শুরু করেছিলেন ডেলউইন।

পরে তিনি দেখতে পান, ঘরে কোনো মানুষ নয়, বরং দাঁড়িয়ে আছে আস্ত এক ময়ূর। স্বামী জিওফ জানান, তারা গাড়ি নিয়ে গ্যারেজে ঢোকার সময় হয়ত সামনের উঠানে থাকা ময়ূরটি সুযোগ বুঝে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।

পাখিটির নজর আয়না থেকে সরাতে পানি ও ক্র্যাকার্স বিস্কুট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া হয়।

উদ্ধারকর্মীরা তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে ময়ূরটিকে উদ্ধার করেন এবং কাছের এক বন্য এলাকায় অবমুক্ত করেন। তবে বন্য এলাকায় ছাড়ার পর ময়ূরটি আর নিজের বাড়িতে ফেরেনি; সে মুক্ত অবস্থাতেই ঘুরতে থাকে।

আয়না দিয়ে বাগে আনার কৌশল

উদ্ধার পাওয়ার পর থেকে পাখিটি আলেকজান্দ্রা হিলসেরই আরেক বাসিন্দা সুজি তাফোলোর খামারবাড়িতে নিয়মিত বিকেলে ঢুঁ মারতে শুরু করে।

সুজি জানতে পারেন, স্থানীয় ট্যাটু শিল্পী এলিয়ট রস তার হারিয়ে যাওয়া পোষা ময়ূর ‘হেক্স’-কে খুঁজছেন। পরে বিশেষ ধরনের পালক দেখে এলিয়ট নিশ্চিত করেন, সুজির বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো পাখিটিই তার নিখোঁজ ময়ূর হেক্স।

ময়ূরটিকে একা ধরতে না পেরে গুগলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সুজি। গুগল সার্চে তিনি জানতে পারেন, ময়ূর আয়না ভীষণ পছন্দ করে। তখনই তার মাথায় আসে বাথরুমে হেক্সের সেই কাণ্ডের কথা।

উপায় পেয়ে নিজের বাড়ি থেকে একটি বড় ড্রেসিং আয়না টেনে এনে পেছনের যে শেডে হেক্স আসে, সেখানে রেখে দেন সুজি। মঙ্গলবার দেখা যায়, কৌশল কাজে দিয়েছে; হেক্স আবার সেই আয়নার সামনে এসে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে।

সুজি আশা করছেন, এবার হয়ত হেক্সকে ধরে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রেমে মগ্ন, নাকি একাকী?

মালিক এলিয়ট রস জানান, কয়েক বছর ধরে হেক্স তার কাছে রয়েছে। এর আগে পাশের প্রতিবেশীর বাড়ি ছাড়া কখনও সেভাবে দূরে যায়নি হেক্স; এভাবে নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা তার জীবনে এই প্রথম।

এলিয়ট বলেন, বাড়িতে হেক্সের জন্য একটি সঙ্গিনী (ময়ূরী) আছে এবং সে ঠিকই বাড়িতে রয়েছে। অন্য কোনো সঙ্গিনীর সন্ধানেই হয়ত হেক্স বাড়ি ছেড়ে দূরে বেরিয়ে পড়েছে বলে ধারণা তার।

পাখিদের আয়নায় প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও নগর বাস্তুবিদ ড্যারিল জোন্স। তিনি জানান, সাধারণত আয়নায় নিজের ছায়া দেখলে অধিকাংশ পাখি তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে আক্রমণ করে বা লড়াইয়ে জড়ায়।

তবে হেক্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে উল্লেখ করে ড্যারিল জোন্স বলেন, এটি প্রেমের খোঁজ নাও হতে পারে, হেক্স হয়তো ভীষণ একাকী বোধ করছিল। তিনি জানান, দুটি পুরুষ ময়ূরের একসঙ্গে থাকা সচরাচর দেখা না গেলেও মাঝেমধ্যে তারা এমনটি করে।

ড্যারিল জোন্স বলেন, “ময়ূর খুব একটা বুদ্ধিমান প্রাণী নয়। হেক্স হয়ত কিছুটা বোকা, তবে ময়ূরী দেখতে কেমন হয় তা সে ভালো করেই চেনে।”

অর্থাৎ, আয়নার প্রতিবিম্বকে কোনও নারী সঙ্গী ভেবে হেক্স ভুল করেনি; বরং একাকিত্বের কারণে আয়নার ছায়াটিকে আরেকটি পুরুষ সঙ্গী ভেবে সে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল বলে ধারণা এই বিজ্ঞানীর।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান