রুশদিকে ছুরি মারা কে এই হাদি মাতার?

নিউ জার্সি থেকে নিউ ইয়র্কে গিয়ে হামলা চালানো ২৪ বছর বয়সী এ যুবকের জাতীয়তা কী, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 August 2022, 11:19 AM
Updated : 13 August 2022, 11:19 AM

নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ছুরি হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় পুলিশ ২৪ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে তাদের হেফাজতে নিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটে চলা অনুষ্ঠানে রুশদি মঞ্চে নিজের আসনে বসার পর যখন তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সেসময়ই ছুরি হামলার শিকার হন।

মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী এ লেখক তার ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসের জন্য বছরের পর বছর ধরে কট্টরপন্থি ইসলামিস্টদের দেওয়া মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন। প্রকাশের পরপরই বইটি ভারতসহ একাধিক দেশে নিষিদ্ধ হয়েছিল। ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা সেসময় রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়াও দিয়েছিলেন।

Also Read: হামলায় আহত সালমান রুশদি ভেন্টিলেটরে, কথা বলতে পারছেন না

“কোথা থেকে একজন লাফ দিয়ে মঞ্চে চলে আসে এবং (রুশদির) বুকে সমানে মারতে শুরু করে, দেখে এমনটাই মনে হয়েছিল; তার বুকে, ঘাড়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন ঘটনার সময়ে দর্শকসারিতে থাকা ব্র্যাডলি ফিশার।

তিনি জানান, হামলার কিছু সময় পর পুলিশ এসে ছুরিকাঘাতকারীকে তাদের হেফাজতে নিয়ে নেয়।

রুশদিকে ছুরি মারলো কে?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা হামলাকারীর নাম বলছেন হাদি মাতার।

২৪ বছর বয়সী এই যুবক নিউ জার্সি থেকে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

রুশদির ওপর হামলার তদন্ত বিষয়ে সরাসরি অবগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য এনবিসি নিউজকে বলেছেন, মাতারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে তিনি যে শিয়া উগ্রবাদী এবং ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল সে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাতার এবং আইআরজিসির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া না গেলেও মাতারের মোবাইল ফোনের ম্যাসেজিং অ্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেমানি ও ইরানি শাসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল এক ইরাকি উগ্রপন্থির ছবি পাওয়া গেছে, জানিয়েছে এনবিসি।

ঊর্ধ্বতন ইরানি সামরিক কর্মকর্তা সোলেমানি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২০ সালে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আইআরজিসিতে ছিলেন।

রুশদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

সন্দেহভাজন হামলাকারীর পক্ষে নিয়োজিত সরকারি উকিল নাথানিয়েল ব্যারনে জানিয়েছেন, তিনি এখনও তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। যে কারণে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি তিনি।

কর্তৃপক্ষ মাতারের নিউ জার্সির বাসা ঘিরে রেখেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো।

সন্দেহভাজন এ যুবকের অনুষ্ঠানস্থলে ‘ঢোকার পাস ছিল’ বলে শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. মাইকেল ই হিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আসতে অতিথিরা পাস কিনতে পারেন, বলেছেন তিনি।

কী ঘটেছিল?

নিউ ইয়র্ক রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তা মেজর ইউজিন স্টানিসজেউইস্কি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটের দিকে রুশদি শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের ওই অনুষ্ঠানে আসেন।

“তার কিছুক্ষণ পরই সন্দেহভাজন হামলাকারী লাফিয়ে মঞ্চে উঠে পড়ে এবং রুশদির ওপর হামলা চালায়, অন্তত একবার করে তার ঘাড়ে ও তলপেটে ছুরি মারে,” বলেন তিনি।

ইনস্টিটিউটটির একাধিক কর্মী ও দর্শকসারিতে থাকা কয়েকজন দ্রুত দৌড়ে এসে সন্দেহভাজন ওই যুবককে ধরে ফেলে ও মাটিতে ফেলে দেয়। সে সময় ইনস্টিটিউটটিতে থাকা নিউ ইয়র্ক রাজ্য পুলিশের এক সদস্য শাটাকোয়া এলাকার শেরিফের ডেপুটিকে সঙ্গে নিয়ে সন্দেহভাজন যুবককে হেফাজতে নিয়ে নেন, বলেছেন স্টানিসজেউইস্কি।

রুশদির ওপর হামলার পর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে সেনাসদস্যদের পোশাকসদৃশ গেঞ্জি ও জ্যাকেট পরিহিত, ছোট করে চুল ছাঁটা একজনকে ধরে পুলিশের গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

মাতারের জাতীয়তা ‘এখনও অজানা’

সংবাদ সম্মেলনে মাতারের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশের কর্মকর্তা স্টানিসজেউইস্কির বলেন, “এটা এখনও জানি না আমরা।”

পুলিশ শাটাকোয়া ইনস্টিটিউটের অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটি ব্যাকপ্যাক ও কিছু ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার করেছে। এখন সেগুলো পরীক্ষার জন্য একটি সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে তারা।

রুশদির ওপর হামলায় মাতার ‘একাই ছিলেন’ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

হামলার পর দর্শকদের মধ্যে থাকা এক চিকিৎসক রুশদিকে তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা দেন, কিছুক্ষণ পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হন এবং তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান, বলেছে পুলিশ।

কয়েক ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় রুশদিকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।

তার বইয়ের এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রুশদি কথা বলতে পারছেন না এবং তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক