১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৯

একই দিনে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে পৃথক বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন।

গাজায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৯
গাজা ভূখণ্ডের বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি এলাকায় এক ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 03:43 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

গাজার একটি শহরের পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। 

গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যর্থ হওয়ার পর তার বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার পশ্চিম এশিয়া সফর করেন। তার সফর শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এ হামলা চালানো হলো।

ফিলিস্তিনি চিকিৎসা ও পুলিশের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, বুধবারের এই হামলায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। 

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থানটি মিউনিসিপ্যাল বা পৌর পুলিশের প্রধান কার্যালয় ছিল।

এর আগে একই দিন মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে পৃথক বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। 

এ নিয়ে বুধবারে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১০ জনে। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নুসেইরাতের হামলায় এক হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্যস্থল করার কথা জানালেও পুলিশ সদরদপ্তরে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত জুলাইয়ের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হামাস একটি 'রোডম্যাপে' সম্মতি দিয়েছে, যার অধীনে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার ও সামরিক অভিযান বন্ধ করলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে।

তবে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে মতামত জরিপে পিছিয়ে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

তিনি স্পষ্ট জানান, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। 

অন্যদিকে হামাস গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে অনড় রয়েছে। 

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার পর্যায়ক্রম বা ধারাবাহিকতা নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর আসন্ন হামলা নস্যাৎ করতেই তারা এসব বিমান হামলা চালাচ্ছে। 

এর আগে মঙ্গলবার গাজার এক সৈকত ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে এক শিশুসহ অন্তত ৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।  

সেসময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হামাস কমান্ডারদের লক্ষ্য করেই ঐ হামলা চালানো হয়।

হুমকির মুখে শান্তি প্রক্রিয়া

বুধবার হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার ও তুরস্ককে জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি এভাবে নিশানা করে হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো বন্ধ না করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে তাদের অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

হামাস কর্মকর্তারা জানান, রোববার মিশরে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে হামাস নেতাদের বৈঠকে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলা বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। 

তবে ওই আশ্বাস সত্ত্বেও ইসরায়েলের এ নতুন হামলা কুশনারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা দিল।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ১২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।