Published : 29 Mar 2026, 03:27 PM
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বুধবার থেকে গ্যাসোলিন বা পেট্রল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে সরকারি ডিক্রির খসড়া তৈরিতে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই নিষেধাজ্ঞা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে, রুশ বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া।
অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার নিয়ে এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর দেওয়া বিবৃতিতে নোভাক বলেন, মূল্য স্থিতিশীল এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে গ্যাসোলিন রপ্তানি নিষিদ্ধের এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশের ভেতর জ্বালানির দাম নির্দিষ্ট সীমার ভেতর রাখার যে নির্দেশনা দিয়েছেন—তা বাস্তবায়নে জোর দেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
“মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কটের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও পেট্রলিয়াম পণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তার কারণেই দামের ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে বলে উপপ্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
বিদেশের বাজারে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের যে বিপুল চাহিদা নোভাক তাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
শুক্রবার নোভাকের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, ফেডারেল এন্টিমনোপলি সার্ভিস, সেইন্ট পিটার্সবার্গ এক্সচেঞ্চ ও খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়, বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
রুশ জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনের পরিমাণ এখনও ২০২৫ সালের মার্চের সমপর্যায়ে রয়েছে, যা দিয়ে পেট্রলিয়াম পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যাবে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও তাদের কাছে পর্যাপ্ত পেট্রল ও ডিজেল মজুদ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উচ্চমাত্রার পরিশোধন সক্ষমতাকে কাজে লাগানো যাবে বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানো শুরু করার পর তেহরান কার্যত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। সঙ্কীর্ণ এ জলসীমা দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ন্যূনতম ২ কোটি ব্যারেল তেল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেত।
যুদ্ধের কারণে হরমুজের আশপাশে কয়েকশ জাহাজ ঠাঁয় বসে আছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়েই নৌচলাচলের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তেল, গ্যাসের পাশাপাশি সার, খাবারসহ অন্য অনেক কিছুর দামেও ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
এক মাস ধরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এরই মধ্যে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ হাজার দুয়েক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
এর পাল্টায় ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মেরে যাচ্ছে। সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই বিস্তৃত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।