২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেইনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৩২

“রাশিয়া ঠিক এই ধরণের সন্ত্রাস চায় এবং তারাই এই যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আক্রমণকারীর ওপর চাপ ছাড়া শান্তি অসম্ভব। আলোচনা কখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আসা বোমা থামাতে পারেনি,” বলেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ট্রাম্পদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেইনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৩২
সুমিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2025, 08:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:30 PM

কুর্স্ক সীমান্তবর্তী শহর সুমিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩২ বেসামরিকের প্রাণ গেছে ও ৮৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেইনের কর্মকর্তারা। 

রোববার স্থানীয় সময় সকালের দিকে শহরটিতে রাশিয়ার দুটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

এই হামলার পর ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পাশাপাশি মস্কোকে ‘চেপে ধরার’ আহ্বানও আছে।

“কেবল বদমাশরাই এমন কাজ করতে পারে, পারে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে। তাও এমন একদিনে যেদিন মানুষ গির্জায় যায়,” বলেছেন জেলেনস্কি। 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। 

রোববারের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ‘গুচ্ছ গোলাবারুদও’ ছিল বলে দাবি ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাকের। 

“যত বেশি সম্ভব বেসামরিককে মারার জন্যই রুশরা এমন হামলা চালিয়েছে,” বলেছেন তিনি। 

পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পরই এ হামলা হল। 

শুক্রবার সেইন্ট পিটার্সবার্গে এই বৈঠক হয়েছিল। 

চার ঘণ্টার এই বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কিরিল দিমিত্রিয়েভ। যদিও পরে ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, “রাশিয়ার দ্রুত সমঝোতায় আসা উচিত। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে; প্রতি সপ্তাহে হাজারের বেশি মারা যাচ্ছে এই ভয়ানক ও অর্থহীন যুদ্ধে।”

রোববারের রুশ হামলার পর জেলেনস্কি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মস্কোকে ‘চেপে ধরার’ আহ্বান জানিয়েছেন। 

“রাশিয়া ঠিক এই ধরণের সন্ত্রাস চায় এবং তারাই এই যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আক্রমণকারীর ওপর চাপ ছাড়া শান্তি অসম্ভব। আলোচনা কখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আসা বোমা থামাতে পারেনি,” বলেছেন তিনি। 

সুমিতে হামলার ঘটনাকে ‘মানুষের প্রাণ, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধ থামাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি চরম অবজ্ঞা’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। 

“এটা সবাই জানে, রাশিয়া একাই এই যুদ্ধ শুরু করেছে, এবং আজ এটা স্পষ্ট যে তারা একা এটা চালিয়েও যেতে চায়,” বলেছেন তিনি। 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার শিগগিরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দ্যর লিয়েন সুমিতে হামলাকে ‘বর্বর’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, চেক রিপাবলিকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ান লিপাভস্কি। 

ট্রাম্পের ইউক্রেইন-রাশিয়া বিষয়ক দূত কিথ কেলোগ সুমিতে হামলা ‘শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।