Published : 18 Feb 2026, 12:36 PM
সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেইন-রাশিয়া দুই দিনের শান্তি আলোচনার প্রথম দিন কোনো ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে প্রায় চার বছর ধরে চলা এ সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কিইভকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাগাদা দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডে এ আলোচনা শুরুর আগের রাতেই রাশিয়া ইউক্রেইনের বিশাল অংশজুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে; তাদের হামলায় দক্ষিণের বন্দরনগরী ওদেসার বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাশিয়ার হামলা ইউক্রেইনের লাখো মানুষকে তাপ ও পানি সুবিধাপ্রাপ্তি থেকেও বিচ্ছিন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
“যুদ্ধ বন্ধে সম্মানজনক চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু রুশদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, তারা আসলে চায় কী?” জেনিভার আলোচকদলের কাছ থেকে প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে রাত্রিকালীন ভাষণে এমনটাই বলেছেন তিনি।
জেনিভায় ইউক্রেইনের আলোচক দলের নেতৃত্বে থাকা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তম উমেরভ এক বিবৃতিতে বলেছেন, মঙ্গলবারের আলোচনায় ‘বাস্তবিক বিষয় ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ার ওপর’ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। বুধবার আলোচনার পর এ দফার বৈঠক শেষ হবে বলেও তিনি জানান।
রুশ কর্মকর্তারা মঙ্গলবারের আলোচনা নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি।
তবে এক সূত্রের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের আলোচনা ছিল ‘খুবই টানটান’, আলাদা আলাদা দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক আঙ্গিকে এই আলোচনা ছয় ঘণ্টা ধরে চলেছে।
উভয় পক্ষ বুধবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে, বলেছে সূত্রটি।
জেনিভা বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিইভের প্রতিনিধিরা দুই দফা আবু ধাবিতে বসলেও সেসব বৈঠক কোনো ব্রেক থ্রু ছাড়াই শেষ হয়েছিল। পূর্ব ইউক্রেইনের কিইভ নিয়ন্ত্রিত অংশের দখল কার হাতে যাবে, চুক্তি পরবর্তী ইউক্রেইনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতবিরোধ রয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে।
১৯৪৫ সালের পর ইউরোপের দেখা সবচেয়ে বড় যুদ্ধের অবসানে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প মস্কো ও কিইভের ওপর নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। যদিও জেলেনস্কি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকেই ছাড় দিতে বেশি চাপ দিচ্ছে, রাশিয়াকে নয়।
জেনিভায় আলোচনা শুরুর আগে উমেরভ এ দফার আলোচনা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত হবে না বলে ধারণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইউক্রেইনের আলোচকরা ‘অতিরিক্ত আশাবাদী না হয়েই’ কাজ করছেন।
মঙ্গলবারের আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
এদিন তাদের ব্যাপক ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। সকালে তারা একই শহরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত হয়েছিলেন, পরে শহরের আরেক প্রান্তে এসে ইউক্রেইন-রাশিয়া আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে বসেন।
একইদিনে একই শহরে বিশ্বের দুটি বড় সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা চলছে, এমন দৃশ্য বিরল।
ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার ফল ইউক্রেইনের ওপরই নির্ভর করছে।
মঙ্গলবার রাশিয়া-ইউক্রেইন আলোচনায় কী প্রত্যাশা করছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “ইউক্রেইনকে আলোচনা শেষ করতে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। আমি কেবল এটুকুই আপনাদের বলতে পারি।”
ইউক্রেইনের শিল্পসমৃদ্ধ দনবাস অঞ্চলের সিংহভাগ এখনই রাশিয়ার দখলে রয়েছে। কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তিতে পৌঁছাতে বাকি ২০% এলাকাও কিইভকে ছেড়ে দিতে বলছে মস্কো। কিন্তু ইউক্রেইন এ শর্তে রাজি হচ্ছে না।
মঙ্গলবার একাধিক ইউরোপিয়ান দেশের প্রতিনিধি জেনিভায় পৌঁছালেও তারা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেননি বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে জেলেনস্কি মার্কিন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করার পর তাদেরকে জেনিভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনীয়রা এ ইউরোপীয় প্রতিনিধিদেরকে আলোচনা সম্বন্ধে জানাবেন, বলেছে একটি সূত্র।