Published : 07 Mar 2026, 09:55 PM
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে রাতভর প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। বন্যায় কয়েক ডজন গাড়ি ভেসে যায় আর পূর্ব আফ্রিকার বৃহত্তম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো জানিয়েছেন, উদ্ধার প্রচেষ্টা সমন্বয় করার জন্য তিনি জরুরি কর্মীদের একটি দল মোতায়েন করেছেন, তাদের মধ্যে সেনা সদস্যরাও আছে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
নাইরোবির গ্রোগান শিল্প এলাকায় নাইরোবি নদীর পানি তীর উপচে ঢুকে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা প্রহরী জন লোমায়ান জানান, তিনি তার পরিচিত এক বয়স্ক ডিম বিক্রেতার মরদেহ একটি গাড়ির নিচে আটকে থাকতে দেখেছেন।
লোমায়ান বলেন, "আমি তাকে ওপর থেকে পানির তোড়ে ভেসে আসতে দেখেছিলাম। আমরা জানতাম না তিনি কোথায় গেছেন। এখন তাকে এই গাড়ির নিচে দেখা যাচ্ছে।"
রয়টার্সের এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে তিনটি মরদেহ গাড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করতে দেখেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকা জুড়ে বন্যা ও খরা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। অল্প সময়ে অতিমাত্রায় বৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৪ সালের 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন'-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বিধ্বংসী বৃষ্টির আশঙ্কা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে।
বিঘ্নিত বিমান চলাচল
কেনিয়া এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে নাইরোবি অভিমুখী ফ্লাইটগুলো ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ফ্লাইট উপকূলীয় শহর মোম্বাসার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় সর্বস্ব হারানো স্থানীয় বাসিন্দা সেড্রিক মুয়ানজা আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, "অসংখ্য গাড়ি আর মালামাল পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আমি জানি না কী হয়েছে। নদীর সব পানি হঠাৎ লোকালয়ে চলে এসেছিল।"
নাইরোবি নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে আর মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।