Published : 27 Jul 2025, 04:42 PM
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারা অস্ত্রবিরতি অর্জনে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও ব্যাংকক ও নম পেন একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তজুড়ে কামানের গোলা ছোড়ার অভিযোগ এনেছে।
কম্বোডিয়া বলেছে, তারা অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি কার্যকরে ট্রাম্পের আহ্বানকে সমর্থন জানাচ্ছে। এদিকে থাইল্যান্ড বলছে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলেও কম্বোডিয়া যতক্ষণ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, ততক্ষণ আলোচনা শুরু করা যাচ্ছে না। নম পেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
“আমাদের শর্ত হচ্ছে, আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে (মধ্যস্থতায়) চাই না, তবে উদ্বেগ দেখানোয় আমরা তার (ট্রাম্প) প্রতি কৃতজ্ঞ।
“অস্ত্রবিরতি এবং সেনা ও দূরপাল্লার অস্ত্র প্রত্যাহারের শর্ত চূড়ান্ত করতে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছি আমরা,” সীমান্ত এলাকা সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কম্বোডিয়া বলছে, রোববার সকালে থাইল্যান্ডই সংঘাত শুরু করেছে এবং সীমান্তজুড়ে থাই বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যুত্তরে ব্যাংকক জানিয়েছে, তারা কম্বোডিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
“আমি মাননীয় প্রেসিডেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অবিলম্বে শর্তহীন অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে কম্বোডিয়া রাজি,” ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে বলেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট।
মালয়েশিয়া এর আগে অস্ত্রবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছিল নম পেন তাতেও ‘সম্মত’, বলেছেন তিনি।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। দুই পক্ষের সীমান্ত সংঘর্ষে চার দিনেই ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে থাইল্যান্ডের ১৩ জন আর কম্বোডিয়ার ৮জনই বেসামরিক।
দুই দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে দুই লাখের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সকালে সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে থাইল্যান্ড গোলাবর্ষণ ও স্থল হামলা চালিয়েছে।
ঐতিহাসিক মন্দির প্রাঙ্গণগুলোতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে, বলেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
“থাইল্যান্ড লড়াই বন্ধে রাজি হলে তা চমৎকার হবে বলে মনে হয় আমার, তাহলে দুই দেশই শান্তিতে থাকতে পারবে,” রয়টার্সকে বলেছেন নম পেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রেয়াং নিতা।
থাই সেনাবাহিনী বলেছে, কম্বোডিয়ার সেনারা রোববার ভোরের আগে বেসামরিকদের বাড়িঘরের কাছে একাধিক এলাকায় গোলা ছুড়েছে এবং তারা দূরপাল্লার রকেট লঞ্চার মোতায়েন করেছে।
সুরিন প্রদেশের গভর্নর রয়টার্সকে বলেছেন, তার প্রদেশে কামানের গোলা ছোড়া হয়েছে।
“থাই নাগরিকরা উদ্বিগ্ন হবেন না। যতক্ষণ না সরকার নিশ্চিত হচ্ছে যে, জনগণের জন্য আর কোনো বিপদ নেই এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনারা জোরকদমে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে, যেন আমরা যেমন শান্তি দেখতে চাই, তা আনা যায়,” বলেছেন ফুমথাম।
থাইল্যান্ডের সিসাকেত প্রদেশে রয়টার্সের সাংবাদিকরা রোববার দিনভর গোলার শব্দ শুনতে পেয়েছেন, তবে এসব শব্দ সীমান্তের কোন পাশ থেকে আসছিল তা নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।
“যদি অস্ত্রবিরতি হয়, তাহলে ভালো হবে। এটা ভালো যে আমেরিকা অস্ত্রবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে, কেননা এতে শান্তি আসবে,” বলেছেন সিসাকেতের বাসিন্দা থাভর্ন তুসোয়ান।
শনিবার ট্রাম্প জানান, তার সঙ্গে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার দুই প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে এবং তারা অস্ত্রবিরতি নিয়ে দ্রুত বসতে সম্মত হয়েছেন।
ব্যাংকক ও নম পেন উভয়েই বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
“উভয়পক্ষই অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি ও শান্তি চায়,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এমনটাই লিখেছিলেন।
তিনি জানান, যতক্ষণ সংঘর্ষ না থামছে ততক্ষণ পর্যন্ত উভয় দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আলোচনা স্থগিত থাকবে।
দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ শতবর্ষ পুরনো; ফরাসী ঔপনিবেশিকরা কম্বোডিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এ বিরোধ দেখা দেয়।
এ নিয়ে মাঝে মাঝেই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হয়েছে, সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণও গেছে।
সর্বশেষ উত্তেজনার সূচনা ঘটে মে মাসে, যখন এক সংঘর্ষে কম্বোডিয়ান এক সেনা নিহত হয়। এরপর দ্রুতই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায়।
তৃতীয় দিনে গড়ালো থাই-কম্বোডিয়ার সংঘর্ষ, অস্ত্রবিরতির আহ্বান মালয়েশিয়ার