Published : 30 Jun 2026, 09:21 PM
কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে জেলার ৪৯৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সোমবার রাতে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে মুড়িয়ারহাট এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এরপর ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুত বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
খবর পেয়ে সোমবার রাত থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার উপরে থাকায় ওই অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণের কাজ আটকে আছে। ফলে ওই অংশ দিয়েই বন্যার পানি প্রবেশ করছে।
তিনি বলেন, আপাতত ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী বছর বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তখন এ এলাকায় ভাঙন ও পানি প্রবেশের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুধকুমার নদীতীরের মুড়িয়ারহাট গ্রামের দিনমজুর নুর মোহাম্মদের ঘরে দুই দিন ধরে পানি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তার।
তিনি বলেন, “দুই দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি। ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রান্নাবান্নাও করতে পারছি না। অন্যের উঁচু বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। কাজও নেই, কীভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছি না।”
এদিকে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যার পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭১ হেক্টর আমনের বীজতলা, ১৫০ হেক্টর আউশ ধান, ১৬৬ হেক্টর পাট, ৮৭ হেক্টর শাকসবজি, ৩ হেক্টর চীনা এবং ২০ হেক্টর চিনাবাদাম।
মরিচের ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান বলেন, বন্যার কারণে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিলেন। তবে পানি কমতে শুরু করায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা কমছে।
তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৭৫ টন চাল ও ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ৩০ টন চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ৩০ পরিবার গৃহহীন, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক
ভূরুঙ্গামারীতে ৩ দিনে কালজানির গর্ভে বিলীন প্রায় ১০০ বসতভিটা