Published : 30 Jun 2026, 09:21 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার চারটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, যার মধ্যে তিনটি রায় গেছে ট্রাম্পের বিপক্ষে এবং মাত্র একটি তার পক্ষে এসেছে।
স্বাধীন সরকারি সংস্থার ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব, ফডারেল রিজার্ভ গভর্নরকে অপসারণ, ডাকযোগে ভোটাধিকার এবং যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলা নিয়ে সোমবার এই রায়গুলো দেওয়া হয়।
স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ক্ষমতা বৃদ্ধি:
আদালতের প্রথম রায়টি ট্রাম্পের পক্ষে এসেছে। এতে বড় জয় পেয়েছেন তিনি। তার নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারপতিদের ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের বরখাস্ত করার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
এর মাধ্যমে গত বছর ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট সদস্য রেবেকা স্লটারকে কোনো কারণ ছাড়াই ট্রাম্পের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিল আদালত।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, অযোগ্যতা বা অসদাচরণের মতো কারণ ছাড়া ফেডারেল সংস্থার কোনও কমিশনার বা প্রধানকে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না। সেই আইনের কারণে রেবেকাকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং তা আদালতে গড়ায়। সেই মামলার রায়েই ট্রাম্প জয়ী হলেন।
আদালতের রায়ের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ১টি আইনি নজির বাতিল হল, যা এতদিন এই ধরনের কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় কংগ্রেসকে ক্ষমতা দিয়েছিল। ট্রাম্প এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে স্বাগত জানালেও ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নরের অপসারণে বাধা:
প্রথম ওই রায়ের ব্যতিক্রম হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ৫-৪ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের এই রায়ে প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষায় শক্ত অবস্থান নেয় আদালত।
১৯১৩ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্ট যিনি ব্যাংকটির গভর্নরকে অপসারণের চেষ্টা করেন। কুকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আবাসন জালিয়াতির অভিযোগ আনলেও আদালত জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
ডাকযোগে ভোট গণনার নিয়ম বহাল:
ডাকযোগে ভোট (মেইল-ইন ব্যালট) গণনার নিয়ম বহাল রেখে ট্রাম্পকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ৫-৪ ব্যবধানের এই রায়ে মিসিসিপি রাজ্যের ১টি আইন বহাল রাখা হয়, যে অনুযায়ী নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পোস্টমার্ক করা ডাকযোগের ব্যালট ভোটের পর ৫ কার্যদিবসের মধ্যে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে।
রিপাবলিকানদের করা চ্যালেঞ্জ খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংবিধান অনুযায়ী কখন ভোট দিতে হবে তা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় আইন, আর কখন ভোট পৌঁছাতে হবে তা দেখভাল করে রাজ্য আইন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মেইল-ইন বা ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতি হতে পারে বলে এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।
যৌন নিপীড়ন ও মানহানির রায় বহাল:
ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই জেন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পের আপিল আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ক্যারল ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শারীরিক নিপীড়ন এবং মানহানির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় মামলার বিচার আগে শুরু হয়। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাম্প এই রায় বাতিলের আবেদন জানালেও সর্বোচ্চ আদালত জুরির সর্বসম্মত রায়টিই বহাল রাখে।
অন্য এক আদালতে ওঠে ক্যারলের ২০১৯ সালের দায়ের করা মামলা। সেই মামলাতেও ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। তিনি একে 'ভুয়া মামলা' বলে অভিহিত করলেও ক্যারলের আইনজীবী এটিকে জবাবদিহিতার চূড়ান্ত জয় বলে উল্লেখ করেছেন।
ওদিকে, চলতি সপ্তাহে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে রায় দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) দেড়শ বছরের পুরোনো নিয়ম বাতিলের ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ, স্কুলে ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনী প্রচারণার তহবিল সংক্রান্ত রিপাবলিকানদের একটি চ্যালেঞ্জ।