Published : 04 Nov 2025, 09:44 PM
নেপালের ইয়ালুং রি পর্বতের বেস ক্যাম্পের কাছে তুষারধসে কমপক্ষে সাতজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের পাঁচজন বিদেশি এবং দুইজন নেপালি বলে জানিয়েছে অভিযান সংগঠক সংস্থা ‘সেভেন সামিট ট্রেকস’।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান মিংমা শের্পা জানান, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ধস নামার পর উদ্ধারকারীরা দুইজনের মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন।
বাকি পাঁচজন তুষারের নিচে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সন্ধানে অভিযান চলছে। আহত আটজনকে উদ্ধার করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দোলাখা জেলার পুলিশ প্রধানের ভাষ্যমতে, সব পর্বতারোহী একই দলের সদস্য ছিলেন। তারা ধস নামার এক ঘণ্টারও বেশি আগে ক্যাম্প ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
নিহত ৫ বিদেশির মধ্যে দুইজন ইতালীয়, একজন কানাডীয়, একজন জার্মান, একজন ফরাসি। আর নেপালি দুইজন গাইড।
দোলাখার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ জ্ঞান কুমার মাহাতো জানান, নেগাঁও এলাকায় একটি উদ্ধার হেলিকপ্টার অবতরণ করেছে—যা ইয়ালুং রি বেস ক্যাম্প থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার হাঁটাপথ। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, অভিযাত্রীদের দলটি কাছাকাছি ডোলমা খাং (৬,৩৩২ মিটার) শৃঙ্গ আরোহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযোজনের অংশ হিসেবে তারা ইয়ালুং রি (৫,৬৩০ মিটার) আরোহণে নামেন।
ওদিকে, পশ্চিম নেপালের পানবারি পর্বত আরোহণকালে নিখোঁজ দুই ইতালীয় পর্বতারোহী স্টেফানো ফাররোনাটো ও আলেসান্দ্রো কাপুটোকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দলের তৃতীয় সদস্য ভেল্টার পার্লিনোকে (৬৫) ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
শরৎকাল নেপালে পর্বতারোহণ ও ট্রেকিংয়ের জনপ্রিয় মৌসুম হলেও প্রচণ্ড আবহাওয়া ও তুষারধসের ঝুঁকি রয়ে যায়।
গত সপ্তাহে সাইক্লোন মন্থা সৃষ্ট ভারি তুষারপাত ও বৃষ্টিতে হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটক আটকা পড়েন। পশ্চিম মুস্ত্যাং এলাকায় দুই ব্রিটিশ ও এক আইরিশ নারীকে কয়েকদিন পর উদ্ধার করা হয়।
গত অক্টোবরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এভারেস্ট অঞ্চলেও শত শত পর্বতারোহী আটকা পড়েছিল।