Published : 24 Jun 2026, 08:14 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চার মাসব্যাপী যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)।
আইএমও-র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এই উদ্ধার অভিযানকে একটি ‘বড় ধরনের অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় দেশ এবং সামুদ্রিক শিল্প খাতের সহযোগিতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিরাপদ নৌযান চলাচল পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপদে অপসারণ পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিটি মুক্ত রাখার ওপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং সারসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘ সংস্থা আইএমও জানিয়েছে, নাবিকদের উদ্ধারে ওমানের সহায়তায় প্রণালিতে দুটি অস্থায়ী রুট ব্যবহার করা হবে এবং প্রতিদিন কতটি জাহাজ নিরাপদে বের হয়ে যাচ্ছে তার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৭২টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী দৈনিক গড় ১৩৮টি পারাপারের চেয়ে অনেক কম।
বিবিসি ভেরিফাই-এর উপগ্রহ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখনো ২০০-র বেশি ট্যাঙ্কার প্রণালির ভেতরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
ওদিকে, মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শুরু করা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনও দেশকেই টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে চাপ দিচ্ছে ইরান। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে রুবিও বলেন,
"এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। আন্তর্জাতিক আইনে কোনও দেশেরই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি নেওয়ার অনুমতি নেই। আমি মনে করি এই অঞ্চলের সব দেশই আমাদের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে।"
উপসাগরীয় অঞ্চল সফরকালে রুবিও কুয়েত ও বাহরাইনেও যাবেন। দেশ দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সফরকালে তিনি ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন।
যুদ্ধ অবসানে দুই পক্ষের মধ্যে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই হলেও এর বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো বিরোধ চলছে। ওয়াশিংটনের দাবি, চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের আওতায় আনার গ্যারান্টি রয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "ইরান দীর্ঘ ভবিষ্যতের জন্য (অনির্দিষ্টকালের জন্য)
সর্বোচ্চ স্তরের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সততা নিশ্চিত করবে।”
তবে ট্রাম্পের এই বার্তার কিছু আগেই তেহরান স্পষ্ট করে দেয় যে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো আইএইএ’র পরিদর্শকরা পরিদর্শন করতে পারবে না।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, "ইরান কোনও অবস্থাতেই তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করবে না।" পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় একেবারেই ছিল না।