Published : 20 Jan 2026, 06:08 PM
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা।
সোমবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, “আজ গোটা স্পেনের জন্য শোকের দিন। আমরা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করব এবং যখনই এর কারণ জানা যাবে, তা পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, গত রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ শহরের কাছে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।
মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিকের রেললাইনে চলে এলে সেই লাইনে আসতে থাকা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সেটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতায় দ্বিতীয় ট্রেনটির বগিগুলো রেললাইনের পাশের নিচু জমিতে ছিটকে পড়ে। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন দ্বিতীয় ট্রেনটির সামনের দিকের বগির যাত্রী, যা মাদ্রিদ থেকে উয়েলভার দিকে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন পরিবহন মন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
তবে প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা রেললাইনের একটি জোড়ায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন।
ওই ত্রুটির কারণে ট্রেনের চলাচলের সময় রেল সেকশনগুলোর মধ্যকার ফাঁক বেড়ে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ত্রুটি দুর্ঘটনার কারণ নাকি ফলাফল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুই ট্রেনে থাকা মোট ৪০০ জন যাত্রী ও কর্মীর মধ্যে ১২২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ৪১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে এবং ১২ জন রয়েছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।
স্প্যানিশ রেড ক্রস জানায়, তথ্যের অভাবে হতাহতদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
এ দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের মালাগা, কর্ডোবা ও সেভিয়াগামী সব উচ্চগতির ট্রেন চলাচল আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানী লেতিজিয়া এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২০১৩ সালে স্পেনের গ্যালিসিয়ায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন। ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম।