২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদের পথে অর্ধেক দূরত্ব পাড়ি দিল আর্টেমিস টু, তুলল পৃথিবীর ‘চোখধাঁধানো’ ছবি

ওরিয়নের ক্রু’দের সোমবার চাঁদের উল্টো পিঠ প্রদক্ষিণ এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা।

চাঁদের পথে অর্ধেক দূরত্ব পাড়ি দিল আর্টেমিস টু, তুলল পৃথিবীর ‘চোখধাঁধানো’ ছবি
রিড ওয়াইজম্যানের ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ ছবিতে পৃথিবীর ভেতর যে বিশাল নীল অংশ দেখা যাচ্ছে সেটি আটলান্টিক মহাসাগর। ছবি: নাসা/বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Apr 2026, 03:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:18 PM

পৃথিবী থেকে চাঁদের মধ্যকার দূরত্বের অর্ধেক পাড়ি দেওয়া আর্টেমিস টু’র এক ক্রু’র তোলা কয়েকটি হাই-রেজ্যুলেশন ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

আমাদের সবচেয়ে কাছের মহাজাগতিক প্রতিবেশীর দিকে যাওয়ার গতিপথ ঠিক করতে ক্রু’রা চূড়ান্ত ইঞ্জিন বার্ন করার পর মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই ‘চোখধাঁধানো’ ছবিগুলো তেলেন, বলেছে নাসা।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে নাসার অনলাইন ড্যাশবোর্ডে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আছে বলে দেখানো হয়েছে; সেসময় চাঁদ থেকে মহাকাশযানটির দূরত্ব ২ লাখ ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম। 

ওয়াইজম্যানের তোলা এই ছবির নাম আর্টেমিস টু লুকিং ব্যাক অ্যাট আর্থ। মহাকাশযান ওরিয়নের চার প্রধান জানালার একটি থেকে তোলা। ছবি: নাসা/বিবিসি

ওয়াইজম্যানের তোলা এই ছবির নাম আর্টেমিস টু লুকিং ব্যাক অ্যাট আর্থ। মহাকাশযান ওরিয়নের চার প্রধান জানালার একটি থেকে তোলা

বিবিসি লিখেছে, ওয়াইজম্যানের তোলো ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ ছবিতে পৃথিবীর ভেতর যে বিশাল নীল অংশ দেখা যাচ্ছে সেটি আটলান্টিক মহাসাগর। পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করায় বায়ুমণ্ডলের চারপাশে আলোর ঝলকও সেখানে স্পষ্ট; দুই মেরুতে জ্বলজ্বল করছে সবুজ আলোকচ্ছটা।

ছবিতে পৃথিবীকে উল্টো মনে হচ্ছে, বাম দিকের অংশে দেখা যাচ্ছে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ, ডানে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ।

ছবির ডানে নিচে থাকা উজ্জ্বল গ্রহটি শুক্র গ্রহ, বলছে নাসা। 

আরেকটি ছবিতে পৃথিবীতে দিন-রাতের সীমারেখা বোঝা যাচ্ছে; এখানে যে রেখাটি আলো ও আঁধারকে আলাদা করেছে সেটিই ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত।

ছবিতে পৃথিবীতে দিন-রাতের সীমারেখা বোঝা যাচ্ছে; এখানে যে রেখাটি আলো ও আঁধারকে আলাদা করেছে সেটিই ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত। ছবি: নাসা/বিবিসি

ছবিতে পৃথিবীতে দিন-রাতের সীমারেখা বোঝা যাচ্ছে; এখানে যে রেখাটি আলো ও আঁধারকে আলাদা করেছে সেটিই ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত

পরে নাসা আরেকটি ছবি প্রকাশ করে যেখানে প্রায়ান্ধকার পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে; তারমধ্যে মানবসৃষ্ট বৈদ্যুতিক আলো যেন টিমটিম করে জ্বলছে।

শুক্রবার একটি ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন সফলভাবে সমাপ্ত করার পর ক্রু’রা এসব ছবি তুলেছে।

এই বার্ন-ই মহাকাশযান ওরিয়নকে পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে নিয়ে যায়। যানটিতে যে চার নভোচারী রয়েছেন চাঁদের কাছে পৌঁছাতে তাদের মোট সাড়ে তিন লাখ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে। 

বিবিসি লিখেছে, আর্টেমিস টু মিশনটি এখন এমন এক চক্রাকার পথে রয়েছে যা ক্রু’দের চাঁদের উল্টো পিঠ ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে গেল। 

প্রায়ান্ধকার পৃথিবী; তারমধ্যে মানবসৃষ্ট বৈদ্যুতিক আলো যেন টিমটিম করে জ্বলছে। ছবি: নাসা/বিবিসি 

প্রায়ান্ধকার পৃথিবী; তারমধ্যে মানবসৃষ্ট বৈদ্যুতিক আলো যেন টিমটিম করে জ্বলছে

ওরিয়নের ক্রু’দের সোমবার চাঁদের উল্টো পিঠ প্রদক্ষিণ এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা।

ইনজেকশন বার্ন শেষ করার পর ক্রু’রা ছবি তুলতে ‘জানালায় আঠার মতো সেঁটে যান’ বলে হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানান মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন। 

“চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার দিকের দারুণ সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি আমরা,” বলেন তিনি। 

মহাকাশ দেখতে নভোচারীদের ব্যাপক উৎসাহ জানালাগুলো নোংরা করে ফেলায় ওয়াইজম্যান পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কাছে সেগুলো কীভাবে পরিষ্কার করা যায় তা জানতে চান। 

দূর থেকে ছবি তোলায় এক্সপোজার ঠিক করা কঠিন, যে কারণে মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর ছবি তুলতে প্রথমে কমান্ডারের কষ্ট হয়েছিল।

২০২৬ সালে মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি, ডানেরটি ১৯৭২ সালের। ছবি: নাসা/বিবিসি

২০২৬ সালে মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি, ডানেরটি ১৯৭২ সালের

“এটা অনেকটা বাড়ির পেছনে গিয়ে চাঁদের ছবি নেওয়ার চেষ্টার মতো। এখন এমনটাই মনে হচ্ছে,” নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে বলেন ওয়াইজম্যান।

নাসা পরে মহাকাশযান থেকে তোলা পৃথিবীর এবারের ছবির সঙ্গে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ দলের তোলা ছবির সাদৃশ্য দেখাতেও একটি ছবি ছাড়ে। ৫৪ বছর আগের ওই মিশনেই চাঁদে সর্বশেষ মানুষের পা পড়েছিল।

“৫৪ বছরে আমরা অনেকদূর এসেছি। কিন্তু একটি জিনিস বদলায়নি। মহাকাশ থেকে আমাদের বাড়িটিকে দারুণ সুন্দর দেখায়,” ছবির সঙ্গে এমনটাই লেখে নাসা।

অর্ধশতক পর ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানে মানুষ

মাধ্যাকর্ষণ টান কাটিয়ে চাঁদের পথে রওনা হল আর্টেমিস টু

আর্টেমিস টু নভোচারীরা এখন কোথায়কী করছেন?