২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মাধ্যাকর্ষণ টান কাটিয়ে চাঁদের পথে রওনা হল আর্টেমিস টু

এর মাধ্যমে মহাকাশযানে থাকা চার নভোচারী ১৯৭২ সালের পর প্রথম মানুষ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে মহাকাশের গভীরে যাত্রার ইতিহাস গড়লেন।

মাধ্যাকর্ষণ টান কাটিয়ে চাঁদের পথে রওনা হল আর্টেমিস টু
ছবির স্ক্রিনের একদম ডানদিকের ছোট বিন্দুটি বুঝিয়ে দিচ্ছে পৃথিবী ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে ও মহাকাশযানটি তীব্র গতিতে চাঁদের পানে ছুটে চলেছে। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Apr 2026, 04:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করল নাসার আর্টেমিস টু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান সফলভাবে পেরিয়ে মহাকাশযানটি এখন গভীর মহাকাশে।

ওরিয়ন মহাকাশযানটি শেষবারের মতো মূল ইঞ্জিন চালু করে চাঁদের দিকে চূড়ান্ত ধাক্কা দেওয়ার পর নভোচারীরা এই পর্যায়ে পৌঁছালেন।

পাঁচ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ‘ট্রান্স লুনার ইনজেকশন বার্ন’ নামের এ ইঞ্জিন দহন প্রক্রিয়াটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাসার ড. লোরি গ্লেজ।

এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটিতে মহাকাশযানটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে বেরিয়ে এসেছে। ইঞ্জিনের প্রচণ্ড গতির ধাক্কায় এখন সরাসরি চাঁদের পথের দিকে ছুটছে রকেটটি।

ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেছেন, তারা সবাই বেশ ভালো বোধ করছেন ও চাঁদের পথে এগিয়ে চলেছেন।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাকাশযানে থাকা চার নভোচারী ১৯৭২ সালের পর প্রথম মানুষ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে মহাকাশের গভীরে যাত্রার ইতিহাস গড়লেন।

এ ছাড়াও, বৃহস্পতিবারের রাতটি ছিল ওরিয়ন আসলে কী করতে পারে তা নীরবে যাচাই করার।

ওরিয়ন ক্যাপসুল পরীক্ষা ও সাফল্য

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি ছিল নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার নিজেই মহাকাশযানটির নিয়ন্ত্রণ হাতে নেন। তিনি ওরিয়নকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রকেটের ওপরের অংশটির চারপাশে চালিয়ে দেখেছেন।

প্রথমে গ্লোভার প্রায় ১২০ মিটার দূর থেকে ডানে-বামে ও উপরে-নিচে ওরিয়নকে ঘুরিয়ে দেখেন। এরপর দূরত্ব কমিয়ে কেবল ১০ মিটারে নিয়ে আসেন ও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মহাকাশযানটিকে নতুন এক ডকিং টার্গেট ও ক্যামেরার সঙ্গে সারিবদ্ধ করেন।

ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, মহাকাশযানটি ঠিক সেভাবেই কাজ করেছে যেমনটি তারা সিমুলেটরে বা কৃত্রিম মহড়ায় দেখেছিলেন। বিষয়টি বিজ্ঞানীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কারণ ভবিষ্যতের বিভিন্ন মিশনে চাঁদের কাছে কোনো ল্যান্ডার বা স্পেস স্টেশনের সঙ্গে ডকিংয়ের জন্য এ ধরনের হাতে চালানো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হবে।

মহাকাশযানের ভেতরে থাকা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, যেখানে বাতাস সতেজ রাখার জন্য তিনটি কার্বন ডাইঅক্সাইড স্ক্রাবারের পরীক্ষা হয়েছে ও সেগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে।

নভোচারীরা যখন কঠোর ব্যায়াম করছিলেন, যার ফলে তারা হাঁপিয়ে উঠছিলেন ও বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করছিলেন তখনও সিস্টেমটি ভালোভাবে কাজ করেছে।

এখন পর্যন্ত প্রতিটি ইঞ্জিন ফায়ারিং কক্ষপথ পরিবর্তন থেকে শুরু করে চাঁদের দিকে যাত্রার বড় ধাক্কাটি পর্যন্ত সবই সময়মতো ও পরিকল্পনা অনুসারে শেষ হয়েছে। ফলে ওরিয়নের ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রপালশন সিস্টেম বা চালিকা শক্তির ওপর নাসার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।

এ মিশন চলাকালীন সোমবার যখন নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাবেন তখন তারা ঘণ্টা ব্যাপী সূর্যগ্রহণ দেখারও সুযোগ পাবেন।