Published : 30 Jan 2026, 11:27 PM
মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই সদ্য সমাপ্ত তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনে সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল জয় পেয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট ‘আসিয়ান’ এখনও এ নির্বাচন মেনে নেয়নি। কয়েকটি মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং পশ্চিমা দেশও এ নির্বাচনকে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মিয়ানমারে এবারের জাতীয় নির্বাচন গতবছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়ে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, ভোটের সব ধাপেই একাধিপত্য সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি)। অর্থাৎ, পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে দলটি।
নিম্নকক্ষের ২৬৩টির মধ্যে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষে ১৫৭টির মধ্যে ১০৯টি আসনে জিতেছে ইউএসডিপি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, গৃহযুদ্ধ, ব্যাপক দমনপীড়ন এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভোটের এমন ফল প্রত্যাশিতই ছিল।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে আগামী মার্চে পার্লামেন্টে বসতে পারে অধিবেশন। নতুন সরকার ক্ষমতা নেবে এপ্রিলে। জান্তা মুখপাত্রের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে সেনাসমর্থিত ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপ।
আপাতত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা ফিলিপিন্স এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছেন, “আসিয়ান এখনও মিয়ানামারের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের ফলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে পারেনি।
“সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় আসিয়ান আপাতত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।” গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অনেক প্রশাসনিক অঞ্চলে ভোট গ্রহণ না হওয়ায় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতেই এ নির্বাচন করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও জনসমর্থিত বলে দাবি করেছে।