Published : 25 Aug 2025, 11:09 PM
সাঁজোয়া যানে রাশিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে একদল রুশ সেনা। এ মাসের শুরুর দিকে ভাইরাল হয়েছে তাদের এই অদ্ভুত কাণ্ডের ভিডিও।
কিন্তু কেন এই কাণ্ড? সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভিডিও’র সেই রুশ সেনারা। বলেছেন, বিশেষত ইউক্রেইনীয় বাহিনীকে উসকানি দিতেই এমনটি করা হয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, ভিডিও ফুটেজটি ধারণ করা হয় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেইনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের মালায়া তকমাচকার গ্রামের কাছে।
তাতে দেখা যায়, রুশ সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-১১৩ সাঁজোয়া যান চালাচ্ছে। ইউক্রেইনীয় সেনারা যানটি ফেলে যাওয়ার পর রুশ সেনারা সেটি নিজেদের দখলে নেয়। তারপর যানের ওপর রাশিয়ার পতাকার পাশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাও উড়ানো হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে যানটি সজোরে চালিয়ে নিয়ে যান এক সেনা। যদিও কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পরই তাতে মাইন বিস্ফোরণ হতে দেখা গেছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, যানটিতে থাকা রুশ সেনারা বেঁচে গেছে।
রোববার রুশ টেলিভিশন আরটি-র প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়ান ওই সাঁজোয়া যানের কাছ থেকে ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করেন।
ভিডিও’র রুশ সেনারা ঘটনার ব্যাখ্যায় বলেন, এই চমক দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল শত্রুপক্ষকে ‘উত্ত্যক্ত’ করা । “খারাপ যান না। আমাদেরগুলো অবশ্য আরও ভাল। তবে এটাও চলবে,” বলেন এক সেনা।
কিইভের ক্ষোভ:
ভিডিও প্রকাশের পর ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দফতরের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক বলেন, “রাশিয়ানরা নিজেদের আগ্রাসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক ব্যবহার করছে; “চরম স্পর্ধা”, টেলিগ্রামে লেখেন তিনি।
কেবল সরকারি মহলই নয়, ইউক্রেইনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিডিওটি নিয়ে নানা বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, দৃশ্যটি সাজানো। কেউ বলেন, দেখানো যানটি আসলে সোভিয়েত আমলের। আবার অনেকে দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা ওই রুশ সেনাদের ইতোমধ্যেই হত্যা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ব্যর্থ বৈঠক এবং এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতির মঞ্চে ক্রেমলিনের জয় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এই প্রপাগাণ্ডা ভিডিও সামনে এসেছে।
ভুয়া না বাস্তব?
আন্তর্জাতিক মহলেও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফ১ বলছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে সম্পাদনা করা হয়েছে। আবার কানাডা-ভিত্তিক নেটো-সমর্থিত সংস্থা ডিসইনফোওয়াচ বলেছে, দৃশ্যটি ‘অভিনীত’ কিংবা সাজানো।
তবে রুশ সেনাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ছিল প্রতীকী প্রদর্শনী—ইউক্রেইনীয় বাহিনীকে মানসিকভাবে দুর্বল করার কৌশল।