১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে সাংবাদিকের সাত বছরের কারাদণ্ড

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, যে জাপানি কূটনীতিকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাকেও কয়েক ঘণ্টা আটক রাখা হয়।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Nov 2024, 01:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:01 AM

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রবীণ সাংবাদিক ডং ইউয়ুকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বেইজিংয়ের একটি আদালত।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রেস ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুয়াংমিং ডেইলির ৬২ বছর বয়সী এই সাবেক সম্পাদক ও সাংবাদিককে এক জাপানি কূটনীতিকের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের সময় আটক করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়।

বৃহস্পতিবার আদালতে তার শুনানির দিন পুলিশ বেশ কঠোরভাবে পাহারার ব্যবস্থা করা হয় আদালত চত্বরে। 

“কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলা একজন সাংবাদিকের কাজের অংশ। গুপ্তচরবৃত্তির মতো মিথ্যা ও অন্যায্য অভিযোগে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়া ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন," বলেছেন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের এশিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেহ লিহ ই।

চীনা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই অন্যায্য রায় বাতিল করতে হবে উল্লেখ করে বেহ আরও বলেন, “চীনে সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার অধিকার রক্ষা করতে হবে।” 

রয়টার্স জানায়, বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করতেন ডং। 

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, যে জাপানি কূটনীতিকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাকেও কয়েক ঘণ্টা আটক রাখা হয়।

২০০৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্যান ফেলো ডং জাপানের কেইও বিশ্ববিদ্যালয় এবং হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পরে ১৯৮৭ সালে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত গুয়াংমিং ডেইলিতে যোগ দেন।

তিনি আইনি সংস্কার থেকে শুরু করে সামাজিক ইস্যুতে চীনা মিডিয়ায় বেশ সরব ছিলেন।  

তার পরিবার প্রাথমিকভাবে তার আটকের খবর গোপন রেখেছিল এই আশায় যে তাকে হয়তো ছেড়ে দেবে। তবে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তার পরিবার জানতে পারে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া ৭০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং এনজিও কর্মী তার মুক্তির জন্য একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।