Published : 29 Apr 2026, 01:55 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটের প্রায় এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ চলছে।
বুধবার দ্বিতীয় দফায় রাজ্যটির মোট সাতটি জেলায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার নির্ধারিত হচ্ছে ১৪২ আসনের ভবিষ্যৎ। এর আগে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ভোট হয়।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, এবার রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়ও ভোট হচ্ছে। এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও নদিয়ায় ভোট হচ্ছে।
সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর একটানা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোট গণনার দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ মে। ৫ মে ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ‘রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে একটি মরিয়া লড়াই’ বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
২০১১ সালে সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভারতীয় কংগ্রেসের দলছুট অংশটি। অনেকে বলছেন, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারই সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
২০২১ এর নির্বাচনেও এ দুইপক্ষের মধ্যে একই ধরনের লড়াই হয়েছিল। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সেরা ফলাফল দেখিয়ে ২১৫টি আসন জিতে নিয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এ আধিপত্যে ভাগ বসাতে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও উন্নয়নের অপ্রতুলতা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। এভাবে এগিয়ে থাকা তৃণমূলের সঙ্গে তারা ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার জন্য তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তহবিল আটকে রাখাকে দায় দিয়েছে।
তবে এই দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবার ভোটের নিরাপত্তায় ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপত্তা কর্মী ভোট কেন্দ্রের তদারকিতে নিয়োজিত হয়েছেন। এভাবে নজিরবিহীন নিরাপত্তার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন রাজ্যটিকে একটি দুর্গে পরিণত করেছেন বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।