Published : 26 May 2026, 12:44 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে দলে দলে যোগ দিতে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশকে অনুরোধ করেছেন।
শনিবার এ দেশগুলোর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একগুচ্ছ চুক্তি। আরব আমিরাত ও বাহরাইন এরই মধ্যে তেল আবিবের সঙ্গে এ অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করেছে।
“সব দেশ যেন শিগগির আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে তার জোর অনুরোধ জানাচ্ছি আমি, আর ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাহলে তাদেরকেও এই অতুলনীয় বিশ্বজোটের অংশ করতে পারলে আমি সম্মানিত বোধ করবো,” সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খুবই জটিল ধাঁধার সমাধানের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এ সব করছে, বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের চুক্তি হয়ে গেলে, ইরানকে ওই অ্যাকর্ডসের অংশ করতে পারলে ‘ওই দেশগুলোও সম্মানিত হবে’, ভাষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে রয়টার্স ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাড়া পায়নি।
যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১-২টি দেশের অ্যাকর্ডসে ‘যোগ না দেওয়ার সঙ্গত কারণ থাকতে পারে’ মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “বেশিরভাগ দেশেরই উচিত ইরানের সঙ্গে এই চুক্তিটি অন্য আর যেভাবে হতো তার চেয়ে আরও বেশি ঐতিহাসিক বানাতে প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম হওয়া।”
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘সুন্দরভাবে এগোচ্ছে’ বললেও ট্রাম্প শিগগিরই এ চুক্তি হতে যাচ্ছে কিনা তার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট আগেও বারবার বলেছিলেন, তিনি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া দেশের সংখ্যা বাড়াতে চান। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর ২০২০ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে এ অ্যাকর্ডসে ঢোকাতে সক্ষম হন।
পরে মরক্কো ও সুদান তাদের অনুসরণ করে।
গত বছর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প ‘সৌদি আরবও একদিন এই অ্যাকর্ডসে যুক্ত হবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত রিয়াদের ভেতর এ ধরনের কোনো ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।
রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক আগে থেকেই আছে।