Published : 29 Jun 2026, 12:34 AM
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং সংগঠিত পরীক্ষা অপরাধের শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল জাতীয় সংসদে উঠেছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এর আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে মুনাফাভিত্তিক বা অ-মুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন, কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের ক্ষমতা দিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সংশোধন বিল, ২০২৬ সংসদে তোলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি অধিকতর পরীক্ষার জন্য তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার শর্তে বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
আর পাবলিক পরীক্ষার অপরাধ সংশোধন বিলটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্য নাজিবুর রহমান বিলের কপি পাওয়া, তিন দিনের নোটিসের বাধ্যবাধকতা এবং বিলটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো নিয়ে আপত্তি তোলেন।
তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী বিলের কপি তিন দিন আগে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। সেই বাধ্যবাধকতা খণ্ডন করা হলে তা সংসদকে জানানো উচিত।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।
পাবলিক পরীক্ষার অপরাধ সংশোধন বিলে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞা যুক্ত করা হচ্ছে।
সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করা ডিজিটাল কারসাজির আওতায় পড়বে।
ডিজিটাল কারসাজি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
বিলে উত্তরপত্রের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নকেও অপরাধ হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন ধারা ১০এ অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম মূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
তবে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন নির্ধারিত না হলে কাউকে এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।