Published : 12 Apr 2026, 08:47 AM
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স রোববার জানিয়েছেন, ২১ ঘণ্টা ধরে ‘সারগর্ভ আলোচনার’ পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি।
শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের স্থানীয় সময় বিকালে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল। আলোচনা রোববার দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স এসব কথা বলেন।
ভ্যান্স বলেন, “আমরা এখন ২১ ঘণ্টা ধরে এর মধ্যে আছি। আর আমরা বেশকিছু সারগর্ভ আলোচনা করেছি যা ভালো খবর। খারাপ খবর হল, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি।
“আমাদের রেড লাইন কোনগুলো সেগুলো আমরা বেশ পরিষ্কার করে জানিয়েছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে মিটমাট করতে ইচ্ছুক আর কোন কোন বিষয়গুলোতে কোনো আপোষ হবে না।”
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানি প্রতিনিধিরা ‘আমাদের শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ইরানিরা কী প্রত্যাখ্যান করেছে, এমন প্রশ্নে ভ্যান্স বলেন, “আমি সব বিস্তারিত বলবো না। ২১ ঘণ্টা ধরে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করার পর আমি জনসমক্ষে আলোচনা করতে চাই না। তবে সহজ করে বললে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না আর দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে তাদের সক্ষম করবে এরকম উপায়গুলোর সন্ধান তারা করবে না এমন ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেখতে চেয়েছিলাম আমরা।”
তিনি বলেন, “এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল আর এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা এটিই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।”

ভ্যান্স আরও বলেন, “ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। তারপর সাধারণ প্রশ্ন হচ্ছে: ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, শুধু এখন না, এখন থেকে দুই বছর পরেও না বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য; আমরা এমন ইচ্ছার কোনো মূলগত প্রতিশ্রুতি দেখতে পাই কি?”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাগায়ি সামজিক মাধ্যম এক্স এ লিখেছেন, “ইসলামাবাদে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিনিধি দলের জন্য এটি একটি ব্যস্ত ও দীর্ঘ দিন ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বহু বার্তা ও টেক্সট আদান-প্রদান হয়েছে।
“গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলো নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক সমস্যা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরান ও এই অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করা।”
তিনি আরও লিখেছেন, “এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা, অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধে থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর।”
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থানরত প্রতিনিধিকে উদ্ধৃত করে তাসনিম নিউজ জানিয়েছিল, ‘সচরাচর ওয়াশিংটন যেরকম মাত্রাতিরিক্ত দাবি করে’ তার কারণে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও আলোচনা অব্যাহত আছে, কিন্তু যে বিষয়গুলো নিয়ে গুরুতর মতভেদ দেখা দিয়েছে তার মধ্যে হরমুজ প্রণালি অন্যতম।