তাসমান সাগরে চীনের নৌ মহড়ার কারণে ৪৯ ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মাঝামাঝি তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিরল একটি লাইভ-ফায়ার মহড়া পরিচালনা করে চীনের নৌবাহিনী।
তাসমান সাগরে চীনের নৌবাহিনীর লাইভ-ফায়ার মহড়ার কারণে ৪৯টি ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রোলিয়ার এক কর্মকর্তা।
অস্ট্রেলিয়ার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এজেন্সির প্রধান দেশটির একটি সংসদীয় কমিটিকে জানান, ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার এক পাইলট গত সপ্তাহে মহড়ার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।
চীন অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মাঝামাঝি তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিরল একটি লাইভ-ফায়ার মহড়া নিয়ে সতর্ক করার পর গত শুক্রবার কোয়ান্টাস, এমিরেটস, এয়ার নিউ জিল্যান্ড ও ভার্জিন অস্ট্রেলিয়াসহ এয়ারলাইন্সগুলো তাদের একাধিক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করে।
চীন আগেই তাদের শুক্র ও শনিবারের মহড়ার বিষয়ে জানালেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস উপকূলের সামরিক মহড়ার জন্য চীনের নৌবাহিনীর কাছ থেকে তারা পর্যাপ্ত নোটিশ পায়নি।
সাধারণত, সামরিক মহড়া, রকেট উৎক্ষেপণ বা আকাশসীমায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন কার্যক্রমের বিষয়ে ‘এয়ারম্যানদের নোটিশ’ (নোটাম) এর মাধ্যমে সতর্ক করা হয়, যা সাধারণত এ ধরনের ঘটনার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জানানো হয়ে থাকে।
এয়ারসার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী রব শার্প সোমবার রাতে পার্লামেন্টের এক শুনানিতে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে ৩০০ নটিক্যাল মাইল (৪৮৩ কিলোমিটার) দূরে তাসমান সাগরে চীনা নৌবাহিনীর লাইভ-ফায়ার মহড়ার পরিকল্পনার বিষয়টি ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার এক পাইলট তার সংস্থাকে জানান।
এভাবেই তারা চীনের নৌবাহিনীর মহড়ার বিষয়ে ‘প্রথম জানতে পারেন’ বলে দাবি করেন শার্প। তবে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুনানিতে শার্পের ডেপুটি পিটার কারেন জানান, জরুরি রেডিও চ্যানেলের মাধ্যমে চীনের পক্ষ থেকে বার্তাটি সম্প্রচার করা হয়, যা বেশিরভাগ পাইলট পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপরই বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য অবিলম্বে সতর্কতা জারি এবং উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা স্থির করা হয়।
কারেন আরও জানান, ভার্জিনিয়া অস্ট্রেলিয়ার পাইলট ওই বার্তা প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই ওই লাইভ-ফায়ার মহড়া হয়তো শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর অস্ট্রেলিয়ার এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বার্তাটি পাওয়ার ১০ মিনিট পর অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্স অপারেশন্স কমান্ডকে বিষয়টি অবগত করে।
তিনি জানান, ওই এলাকার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক মহড়া পরিচালনা করা ফরাসি প্রতিরক্ষা বাহিনী সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে অস্ট্রেলিয়ার এয়ার ট্র্যাফিককে সতর্ক করে।
গত সপ্তাহে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি ফ্রিগেট, ক্রুইজার ও সরবরাহ জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রবেশ করে।
এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, তারা আগেই একাধিকবার নিরাপত্তা নোটিশ জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই মহড়া আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে, চীনা নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের সতর্কবার্তা একজন বাণিজ্যিক পাইলটকে জানানো উচিত ছিল কি না— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী বিষয়টি সম্পর্কে জানত এবং আমি এ নিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি।"
তিনি আরও জানান, চীনা নৌবহরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিগেটগুলো সমুদ্র ও আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
নিউজিল্যান্ডের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, চীনা নৌবহর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যের রাজধানী হোবার্ট থেকে ২১৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে অবস্থান করছে।
