০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে যাওয়া: রাজনৈতিক সংকটে গতিহীন অর্থনীতি

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানো কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। নির্বাচনের পরও কেন কাটছে না অর্থনীতির এই স্থবিরতা?

এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে যাওয়া: রাজনৈতিক সংকটে গতিহীন অর্থনীতি

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছানোর স্বপ্ন আরও তিন বছর পিছিয়ে গেল; এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও অর্থনীতির ক্ষতগুলো সারানো এখন সময়ের দাবি।

কামরান রেজা চৌধুরী কামরান রেজা চৌধুরী

Published : 01 Nov 2026, 08:18 AM

Updated : 01 Nov 2026, 08:20 AM

একজন বাংলাদেশি হিসেবে খবরটি খুব স্বস্তিদায়ক নয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ অক্টোবর সর্বসম্মতভাবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি)থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৬ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ থেকে উত্তরণের জন্য নেপালকেও একই রকম বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে একটি সাদৃশ্য রয়েছে। দুই দেশেই ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটেছে; এবং সরকার-পতন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করেছে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো—দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার মতো অর্থনৈতিক ও অন্যান্য যোগ্যতা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার যে অবনতি হয়েছে, সেটি বুঝতে খুব বড় গবেষক হওয়ার দরকার নেই। তথ্য-উপাত্তে যাই বলা হোক না কেন, দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা বৃদ্ধিই নির্দেশ করে যে দারিদ্র্য বেড়েছে। তাছাড়া মানুষ আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজতে শুরু করেছে, যা আগে ছিল না।

এই পরিস্থিতির জন্য শেখ হাসিনা সরকার-পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা, জনজীবনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণের অভাব, জনগণের একাংশের মব সহিংসতা, ভয়ের আবহ, অনিশ্চয়তা ও সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী।

প্রতিটি দেশেই সরকারের পতন অথবা বিপ্লব সংঘটিত হলে সেখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং এর প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে আমরা খুব ভালো ছিলাম। তার সরকার যেভাবে অর্থনীতি পরিচালনা করছিল, তাতে বাংলাদেশ খুব বেশি দিন অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারত না। এটি ভেঙে পড়তই—সেটি আগে হোক কিংবা পরে।

আজকে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি এর জন্য শেখ হাসিনা সরকারের ভুল নীতি দায়ী বলা যায়। তিনি তার পুরো শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এমন এক উন্নয়নের মডেল সামনে এনেছিলেন, যা পাকিস্তান আমলেই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান গণতন্ত্রের পরিবর্তে উন্নয়নকে সামনে এনেছিলেন; এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামোর অনেক কিছুই আইয়ুব খানের আমলে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই উন্নয়ন উদ্যোগ কি আইয়ুব খানকে রক্ষা করতে পেরেছে? পারেনি। তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক স্পৃহাকে দমাতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কিন্তু শেখ হাসিনা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেননি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে চালু করেছিলেন কর্তৃত্ববাদী শাসন, যার পরিণতিতে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এই ঘটনা দেশের জন্য একটি মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যাগুলো হিসাব করতে গেলে অনেক বিষয় সামনে চলে আসবে—যেমন আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও এর উচ্চমূল্য, বিনিয়োগের অভাব, ইরান যুদ্ধ ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটাই মিথ্যা নয়, সবই সত্য।

অনেকেরই আশা ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গতি আসবে, প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে তরতর করে। অতীতের প্রত্যেকটি সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছিল কয়েক গুণ। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থনীতিতে গতি আসছে না।

এর অন্যতম একটি কারণ হতে পারে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি সরকারের কাজের মধ্যে খুব বেশি গুণগত পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। নীতির ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতা। অনেকের ধারণা ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিতর্কিত চুক্তি বাতিল অথবা পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু দেখা গেল, বিএনপি সরকারের মন্ত্রীরা এই চুক্তির পক্ষে কথা বলা শুরু করলেন। একই অবস্থা চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার ক্ষেত্রেও। মার্কিন চাপে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তও পরিবর্তিত হয়নি; উপরন্তু ইউরোপ থেকে এয়ারবাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ রকম নানা কারণে দেশের মানুষের একটি অংশ বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্প্রসারণ বলে মনে করছেন, যা বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব নেতিবাচক সিদ্ধান্তের দায় চলে যাবে বিএনপির ওপর। সেটি হলে, আট মাসের বিএনপি সরকারকে দায় নিতে হবে আড়াই বছরের শাসনের। বিএনপি নেতৃত্ব বিষয়টি ভেবে দেখবেন কি না এবং কী করতে হবে, সেটি তারাই ভালো জানেন।

এগুলোর পাশাপাশি যে গভীর সংকট ও সমস্যা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দিচ্ছে না, সেটি নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না—আর সেটিও রাজনৈতিক। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বলতে হবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। কেমন অনিশ্চয়তা, সেটি ব্যাখ্যা না করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে না।

গত দুই বছর ধরে যে প্রশ্নটির উত্তর আমার মতো সাংবাদিকদের দিতে হচ্ছে, সেটি হচ্ছে—দেশের খবর কী? কী হতে যাচ্ছে? দেশ তো ভালোর দিকে যাচ্ছে না—ইত্যাদি। তবে বলে রাখা ভালো, শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষ দিকেও একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো।

২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশা ও শ্রেণির মানুষ অনেক অবৈধ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল বিএনপি-জামায়াতের কিছু ‘মডারেট’ নেতাকর্মীর, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে ব্যবসা করতেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বেশি নিতেন এবং অন্যরা কম নিতেন—অর্থাৎ বৈধ-অবৈধ ব্যবসার ভাগ পেতেন। তারা হয়তো টিকে থাকার স্বার্থেই এমন কাজ করেছেন।

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই দৃশ্যপট বদলে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের গত ১৫ বছরে অর্জিত টাকা, বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফুটপাতের অবৈধ চাঁদাবাজিও বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগ-বিরোধী অন্য সব দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অনেক স্থানে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আক্রমণ করে তা দখল করে নেন। আবার অনেক স্থানে আওয়ামী লীগের নেতারা আপসে তাদের সব টাকা, গহনা, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং বাড়িঘরসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হাতে সমর্পণ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে আত্মগোপনে চলে গেছেন। যারা পেরেছেন তারা বিদেশে চলে গেছেন, আর যারা পারেননি তারা দেশের ভেতরেই আত্মগোপন করে আছেন। শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা যে সম্পদ ১৫ বছর ধরে গড়ে তুলেছিলেন, হাসিনার পতন ঘটার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই সম্পদ আওয়ামী লীগবিরোধীদের হাতে চলে গিয়েছে।

কিন্তু বিপত্তি ভিন্ন জায়গায়। আওয়ামী লীগ নেতাদের লুটের টাকা ও সম্পদ নিয়ে কী করবেন এসব নেতা? তাদের চিন্তা—এই টাকা যদি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়েন, বাড়ি-গাড়ি করেন, তাহলে এর ভবিষ্যৎ কী? কারণ মুখে যতটাই বলা হোক না কেন যে আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেওয়া হবে না, অনেক নেতাই আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ ফিরবে, এবং ফিরলে ভয়ংকর রূপ নিয়ে ফিরবে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরবেন—এই ঘোষণা নিয়ে দেশের বিরাট অংশের মানুষের, এমনকি বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের মধ্যেও শঙ্কা আছে—যদি ফিরে আসেন; ডিসেম্বরে না হোক কোনো এক সময় যদি ফিরে আসেন, তখন কী হবে?

এই প্রেক্ষাপটে এই টাকাগুলোর ভবিষ্যৎ দুইভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

এক, দালালদের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হবে এবং সেই পাচারকৃত অর্থ পরে বৈধ চ্যানেল দেখিয়ে দেশে এনে সাদা করা হবে; অথবা দেশে আর ফেরত আনা হবে না—সেখানেই নামে-বেনামে বিনিয়োগ হবে। কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে যত বড় বড় কথাই বলা হোক না কেন, তাদের দেশে টাকা যেতে খুব বেশি বাধা নেই; সেখান থেকে টাকা বের করতে গেলেই কেবল সমস্যা—মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ও আইনি ব্যবস্থা।

দুই, এই টাকাগুলো দিয়ে বেনামে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি অথবা স্বর্ণ কেনা হবে; অথবা বস্তাবন্দি করে টাকা কোথাও লুকিয়ে রাখতে হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন অধিকাংশ অবৈধ টাকার মালিক। সে কারণেই তাদের হাতে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় আসছে না, আর অর্থনীতিতেও গতি ফিরছে না।

এই অবস্থায় করণীয় কী? আমরা কি এভাবেই চলতে থাকব? এর কি কোনো সমাধান নেই? সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপি-জামায়াতকে নিষ্পেষণের মাধ্যমে শেষ করতে পারেনি, তেমনি বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিও নিপীড়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারবে না। তাই সবার মধ্যেই এই শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া দরকার। দেশের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক মতৈক্য—প্রকৃত রাজনৈতিক মতৈক্য, যেখানে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও জোটের অংশগ্রহণ থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ‘জাতীয় ঐকমত্য’ নয়, যেখানে বিএনপি-জামায়াত ও হাতে গোনা কয়েকটি দল ছাড়া অধিকাংশ দলই ছিল নামসর্বস্ব।

বর্তমানে রাজনৈতিক মতৈক্য ও অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ আসলেই বলা হয়, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী আমলে’ জাতীয় ঐকমত্যের কথা কোথায় ছিল? সত্যিই, ছিল না। জাতীয় মতৈক্য ছিল না বিধায় দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছিল এবং যার ফলে আজ দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বাংলাদেশের অস্তিত্বের স্বার্থে এর একটি সমাপ্তি প্রয়োজন।

রাজনীতির আলাপ-আলোচনার বড় অংশই হয় লোকচক্ষুর অন্তরালে। রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন, বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে—এটিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা। এটি ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আমাদের রাজনীতিবিদরা যত তাড়াতাড়ি এই বিষয়টি উপলব্ধি করবেন, ততই মঙ্গল।

আর সেটি করা না গেলে কী হবে? সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ তার লেখা ‘On My Country and the World’ বইয়ে লিখেছেন, “ইতিহাসের শিক্ষা হলো—সমাজ যখন পরিবর্তনের উপযুক্ত হয় এবং সরকার যদি তা করতে অস্বীকৃতি জানায় অথবা অসমর্থ হয়, সেক্ষেত্রে সমাজে ক্ষয় শুরু হয়, নয়তো বিপ্লবের সূচনা হয়।”

বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের জন্য উপযোগী। এই পরিবর্তন ইউনূস সরকারের প্রস্তাবিত জটিল ও অপ্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে হতে হবে—তার কোনো মানে নেই। পরিবর্তন হতে হবে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ও সংস্কৃতিতে।

এখন দেখার বিষয়, আমরা কি টেকসই পরিবর্তনের দিকে যাব, নাকি ক্ষয়ের পথ বেছে নেব, না কি দেশ পুনরায় কোনো বিপ্লবের পথে হাঁটবে?

কামরান রেজা চৌধুরী: সাংবাদিক; সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন তিন দশক ধরে। ই-মেইল: kamran.reza@gmail.com