০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফলের আতঙ্ক: শিক্ষায় আনন্দ থাকবে তো?

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের সমাপ্তি আর মূল্যায়নে কঠোরতা—এইচএসসির ফলাফল শিক্ষার্থীদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু কঠোর নিয়মের ঘেরাটোপে শিক্ষায় আনন্দের জায়গাটা আদৌ অবশিষ্ট থাকছে কি?

ফলের আতঙ্ক: শিক্ষায় আনন্দ থাকবে তো?

ফলাফলের চাপ ও আতঙ্ক যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চিরতরে থামিয়ে না দেয়।

সৌমিত জয়দ্বীপ সৌমিত জয়দ্বীপ

Published : 01 Nov 2026, 09:27 AM

Updated : 01 Nov 2026, 09:28 AM

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। পাসের হার নিয়ে দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে৷ সেই আলোচনায় বারবার ফিরে আসছে ২০-২২ বছর আগের ফলাফল। পরিসংখ্যানগত পার্থক্য বোঝানোর জন্য আসতেই পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে একটি সবিশেষ টীকা দেওয়া প্রয়োজন।

সাধারণত বলা হয় যে মিথ্যা তিন প্রকার। এক, মিথ্যা; দুই, ডাহা মিথ্যা এবং তিন, পরিসংখ্যান। এ কারণেই শুধু পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে দুটি ভিন্ন সময়ের মান যাচাই করতে যাওয়াটা বেশ বিভ্রান্তিকর। পরিসংখ্যান কখনই নম্বরের কচকচানি ব্যতীত বাকি যতসব সম্ভাব্য পরিস্থিতি থাকতে পারে, সেগুলোকে বিবেচনায় রাখে না—এটাই পরিসংখ্যানের প্রধান সীমাবদ্ধতা।

সেজন্যই পরিসংখ্যান দিয়ে যারা ২০-২২ বছর আগের পরিস্থিতি মাপতে চাইবেন, তাদের বয়ানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে লেখাটা এভাবে শুরু করতে হলো। আমার আপত্তি বা বলার জায়গাটা হলো, আজ থেকে দুই দশক বা সিঁকি শতাব্দী আগে বাংলাদেশে যে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ছিল, তা আজকের সঙ্গে কোনোভাবেই তুল্য নয়।

২.

আর্থসামাজিক পরিস্থিতিকে যদিবা দূরেও রাখি (রাখা যদিও মুশকিল), তবুও শুধু শিক্ষাসহায়ক সূচকগুলো বিবেচনা নিলে আজকের বাংলাদেশ তখনকার চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। একটি মাত্র উদাহরণ বলি: দুই যুগ আগে এদেশে এক শিক্ষাস্তর থেকে আরেকটিতে উত্তরণের পথে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত, তা বহু বছর হলো আর সে জায়গায় নেই।

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে ঝরে পড়ার এমন কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল, বিশেষত মেয়েদের সংখ্যায় বেশ ভালো পরিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু এরপর আবারও বাংলাদেশে স্তরান্তরের পরিণতি হিসেবে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমেছে। পরিসংখ্যানের ভারে ভারাক্রান্ত হতে চাইছি না বলে তথ্যগুলো এড়িয়ে গেলাম। তবে, যেকোনো তথ্য বাতায়নে খোঁজ নিলেই আপনি এগুলো যাচাই করতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, যে সময়ের কথা আমরা বলছি, সে সময়টা ছিল তৃতীয় বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়া সরকারের শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাল। আজকের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তখনকার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তাকে নিয়ে মন্ত্রী হিসেবে যত 'মিথ' প্রচলিত আছে, সেগুলো তার সে সময়েরই অর্জন। বলা ভালো সে সময়ের সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অর্জন এই মিথগুলো। যে প্রজন্ম সেসব চাক্ষুষ করেছে, তাদের জন্য এগুলো মোটেও মিথ নয়। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।

কেমন ছিল সে অভিজ্ঞতা? অভিজ্ঞতা হলো, সে সময়েই দেশে প্রথমবার এসেছিল জিপিএ পদ্ধতির ফলাফল এবং এই পদ্ধতি আদতে কীভাবে কাজ করত তা নিয়ে সবার মধ্যেই একটা সংশয় এবং ততোধিক আতঙ্ক বিরাজ করত। অন্তত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তারা খুব ভালো করে জানেন কী তুমুল ঝড় বয়ে গেছে তাদের জীবনে। না শিক্ষার্থীরা জানতেন ফল কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, না শিক্ষকরাও পরিষ্কার ধারণা করতে পেরেছিলেন কী হচ্ছিল। এই পাঁচ বছরে ফি-বছর যেভাবে জিপিএর মানদণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছিল, তার দৃষ্টান্ত বোধকরি বাংলাদেশে আগে ও পরে আর কখনো সৃষ্টি হয়নি। শুধু এটা নিয়েই একটা আলাদা লেখা দাবি করে। ঘটনাচক্রে আমি সেই প্রজন্মেরই প্রতিনিধি!

তৃতীয়ত, শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) ও পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) পরিবর্তন ছিল আরেকটি বিষয়। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে আর শিক্ষাক্রম-পাঠ্যক্রমের ওপর তার প্রভাব পড়েনি, তা বোধহয় কোনো সরকারের চরম মিত্রও বিশ্বাস করবেন না৷ ফলে, প্রত্যেক প্রজন্মকেই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলি, ২০০২-২০০৩ শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ২০০৪ সালে যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের ইংরেজি বই হুট করেই বদলে গিয়েছিল, বদলে গিয়েছিল প্রশ্নের ধরণও। শিক্ষার্থীরা যদি ছিলেন কুয়াশাচ্ছন্ন তো শিক্ষকরা বোধহয় ছিলেন মেঘাচ্ছন্ন। আর পরীক্ষকদের অবস্থা তো তথৈবচ হয়েছিল বলেই মনে হয়! ইংরেজির মতো বিষয়ের আমূল পরিবর্তন ফলাফলের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা কি চোখ বন্ধ করে একবার ভাবতে পারছেন?

চতুর্থত, তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর হেলিকপ্টার যোগে নকলাভিযান। সেই অভিযান কতটা ফলদায়ী ছিল তা আজ বলতে পারি না। কিন্তু এটাই এতো বছর পর মিথ হিসেবে ফিরে এসেছে—পড়ালেখা না করলে আর রেহাই নেই! সত্য যে, বাংলাদেশকে নকলমুক্ত করার যে অঙ্গীকার অন্তত তৎকালীন সরকারের তরফে ছিল, তাতে তারা বেশ সফল হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশে নকলের প্রভাব আসলেই কমে গিয়েছিল। কিন্তু, এতো বছর পর এ প্রশ্নটিও মনে উঁকি দেয় যে, আদতে যেসব শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থীর জন্য পড়ালেখা বা ফলাফলটা কখনোই নকল-নির্ভর নয়, তাদের জন্য পরীক্ষার হলে একজন মন্ত্রীর ওই ধরনের অভিযান কতটা ট্রমা তৈরি করেছিল?

আতঙ্ক তৈরি করে মন্দদের বিরত রাখা যায় অবশ্যই। কিন্তু আগাগোড়া যারা ভালো, তাদের জন্য সেই আতঙ্ক কতটা ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে, সেটাও আমলে আনার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ সত্যই নকলরোধের দুই যুগোধিক পূর্বের বাস্তবতায় আছে কি না, সেটা ভেবে দেখা জরুরি। এ বাবদ কথা হলো এই যে, বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করেই পরীক্ষায় বসেন—এ বাস্তবতাকে আমাদের স্মরণে রাখতে হবে।

৩.

এবার বর্তমানে আসি৷ ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। কাকতালীয় হলো, এবার মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলেও ২০২৫ সালের তুলনায় পাসের হার কমেছিল ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ গড় পাসের তুলনায় ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। শুধু পাসের হার নয়, দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ ফলাফলের সূচক জিপিএ ৫-এও সামগ্রিক ফলাফলের ছাপ তৈরি হয়েছে।

তার মানে, বিগত ৫-১০ বছরের তুলনা করলেও, এমন কিছু ঘটে গেছে বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষার অন্দরমহলে, যা আসলে আমাদের পরিপূর্ণ বাস্তবতায় ফিরিয়ে এনেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা এখন চরম 'রিয়েলিটি চেকে'র পরিস্থিতি, না মানতে পারলে অকৃতকার্য হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

প্রথমত, 'সংক্ষিপ্ত সিলেবাস' নামক এক অদ্ভুত ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আর নেই। পাবলিক পরীক্ষা 'সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে' হয়, এটা জানার পর রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছিলাম এবং এমন সিদ্ধান্ত কী করে নীতি নির্ধারকরা নিতে পেরেছিলেন শুধু ভালো ফলাফলকে অনুপ্রাণিত করার জন্য, তা বিস্ময়কর ঠেকেছিল। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন এবং পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে যাওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্নপত্র হয়ে গেছে আগের তুলনায় কঠিন। তৃতীয়ত, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে আরোপ করা হয়েছে যথাসম্ভব কঠোরতা। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস, কঠিন প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়নের কঠোরতার সমন্বিত নীতি খুব স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

এখানে বলা দরকার যে, নকলবিরোধী অভিযানের কালেও এদেশে পাবলিক পরীক্ষার ফল গড়পড়তা এমনই থাকত। পূর্বে আরও কম থাকত। ফলে, এ কথা সর্বৈবভাবেই বলা যায় যে, বর্তমান শিক্ষার্থীদের এখনকার যে ফল, তাকে একদম অপাঙক্তেয় ভাবাটা অদূরদর্শিতা হবে। কিন্তু, একটি জায়গায় এখনো ফলাফলের ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। এক সময় বোর্ডস্ট্যান্ড ও স্টার নম্বর যারা পেতেন, তাদের মানদণ্ডে আদৌ এখনকার লক্ষাধিক জিপিএ-৫ ফলাফলধারী পৌঁছুতে পেরেছেন কি না, কিংবা কী ধরনের নীতি অনুসরণ করলে সেই মানদণ্ডের শিক্ষার্থীদের যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা যাবে, সেটা নিয়ে ভাবা জরুরি। এতো এতো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছেন, কিন্তু তারা কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন না, সেটা তো অবশ্যই প্রশ্নের উদ্রেক করে।

৪.

মোদ্দাকথা হলো, এবারের এইচএসএসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল যদি সামগ্রিকভাবে বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা-বাস্তবতা হয়ে থাকে তো, সেটাকে আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে এবং সেই বাস্তবতাটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারকে বাহবা দিতে হবে।

পাশাপাশি এজন্যও বাহবা সরকারের প্রাপ্য যে, অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার একটি যুগান্তকারী নীতি তারা নিয়েছে। শুধু দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার জন্য দীর্ঘ এক বছর বসে থাকার একটি ট্রমা আছে। সেই ট্রমা থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তি পেল। এখন এই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য তাদের ধনুর্ভঙ্গপণ করতে হবে। কিন্তু, অতীতে দেখা গেছে, ফলাফল খারাপ হলে অনেকেই পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ফেলে। এই বয়সী মেয়েদের বাস্তবতা আরও কঠিন—বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তাদের! আমরা আশা করব, নতুন জমানার বাস্তবতায় সরকার জনমনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে সচেষ্ট হবেন।

পরীক্ষা ও ফলাফলকেন্দ্রিক কঠোরতার ইতিবাচক নীতিগুলো থাকুক। কিন্তু নিয়মের কড়াকড়ি যেন শিক্ষা ও পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি না করে, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সেজন্যই বলেছি যে, নকলবিরোধী অভিযান আজকের বাস্তবতায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। বরং, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে আতঙ্ক ও মোবাইল জার্নালিজমের প্রকটতা রোধে পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ সুন্দর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া এখন অতীব জরুরি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের এই নতুন শিক্ষা-বাস্তবতার মধ্যেই যে শিক্ষার্থীরা সফল হচ্ছেন, তাদেরও একটি বাড়তি বাহবা প্রাপ্য। ডিজিটাল যুগে এসে শুধু পড়ালেখা করে সময় অতিবাহিত করার প্রজন্ম পাওয়ার আশা আমাদের ছেড়ে দিতে হবে। এখনকার শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে যতটা, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসেও ততটা সময় কাটান। তার ওপর আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত তো আছেই।

এমন পরিস্থিতিতে কতটা গভীর অনুধ্যান দিয়ে শিক্ষার্থীরা আজকাল পড়ছেন কিংবা সেই পড়ালেখা কতটা জ্ঞানার্জনের জন্য আর কতটা পরীক্ষা বা ফলাফলকেন্দ্রিক, সেটা যাচাইয়ের জন্য আমাদের কোনো পদ্ধতি নেই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলোও সেই স্তরের নয় যে, আমরা শিক্ষার্থীদের সেই সৃজনশীলতা যাচাই করতে পারি। সামগ্রিকভাবে আমাদের সীমাবদ্ধতা তো আছেই, নিজেদেরও সৃজনশীলতার অভাব আছে, যা কাটিয়ে উঠতে পারলে হয়তো শিক্ষাক্ষেত্রে আনন্দটুকু অন্তত শিক্ষার্থীদের উপহার দেওয়া যেত।

একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সবসময়ই বলি, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করা। ওখানেই হয়তো বিষয়জ্ঞানের গভীরতা মাপা ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর কিছুটা হলেও সুযোগ আছে। এই যুদ্ধে যারা সফলভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন, এইচএসসির ফল তখনই কেবল মধুর হয়ে উঠে। তা ফলটির বর্তমান অবস্থা যেমনই হোক না কেন।

সেই মধুক্ষণ সকলের জীবনে উপস্থিত হোক। সকলের জন্যই শুভ কামনা।

সৌমিত জয়দ্বীপ: সহকারী অধ্যাপক, স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: sowmit.joydip.lekhalekhi@gmail.com