৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

উচ্চমাধ্যমিকে ৩ বিষয়ের ফল বেহাল

“শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব ও সরঞ্জামের অভাব শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে,” বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 07:39 PM

Updated : 31 Oct 2026, 07:49 PM

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সবথেকে বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন ইংরেজি, আইসিটি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে।

শনিবার প্রকাশিত ফলে বিষয়ভিত্তিক পাসের হারে এ চিত্র দেখা গেছে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে কেবল একটি বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের ওপরে। তিনটি বোর্ডে পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে। অন্য পাঁচটি বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের ওপরে।

অপরদিকে আইসিটিতে ছয়টি বোর্ডে পাসের হার ৭০ শতাংশের ওপরে। আর বাকি তিনটি বোর্ডে পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখার হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে কেবল একটি বোর্ডে পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে। চারটি বোর্ডের পাসের হার ৭০ শতাংশের ওপরে। আর বাকি চার বোর্ডের পাসের হার ৫০ শতাংশেরও ওপরে।

এ তিন বিষয়ের ফলে বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ‘কাঠামোগত দুর্বলতার’ কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়গুলো মূলত দক্ষতানির্ভর, যেখানে আমাদের মূল কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হচ্ছে।

“ফলে ১০ বছরের যে লার্নিং গ্যাপ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে আসছে, তা মাত্র দুই বছরের সীমিত সময়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব ও সরঞ্জামের অভাব শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে।”

ভাষা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা না কাটিয়ে নতুন বিষয়ে ঝুঁকে পড়ার চেয়ে মাতৃভাষা বাংলা ও মৌলিক ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন এ অধ্যাপক।

ইংরেজি

ঢাকা বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৪০৯ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।

রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৪ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করেছেন ৫৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৯২ হাজার ১৬২ জন। পাস করেছেন ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

যশোর বোর্ডে পরীক্ষায় বসা ১ লাখ ৮ হাজার ৯৩৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৯৯ হাজার ৮৫১ জন। পাস করেছেন ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৫২ হাজার ৮৬৭ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

সিলেট বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৪২ হাজার ৬৭২ জন। পাস করেছেন ৬৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৬ হাজার ২২৬ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করেছেন ৫৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৬৮ জন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ।

আইসিটি

ঢাকা বোর্ডে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬২৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।

রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে ৯২ হাজার ১১৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৩ দশমিক ০১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

যশোর বোর্ডে ৮৭ হাজার ২৭৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৯৯ হাজার ৮৫১ জন। পাস করেছেন ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৫১ হাজার ৫৫০ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সিলেট বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৪ জন। পাস করেছেন ৭৪ দশমিক ২০ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

দিনাজপুর বোর্ডে ৯১ হাজার ২১৪ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করেছেন ৭২ দশমিক শূন্য ৬৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৬১ হাজার ৯৬০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

হিসাব বিজ্ঞান

ঢাকা বোর্ডে ৫৭ হাজার ৩৪১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৯ দশমিক ২২ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

রাজশাহী বোর্ডে ৯ হাজার ৭৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে ২২ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

যশোর বোর্ডে ৯ হাজার ৫৮২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ২৭ হাজার ১২৩ জন। পাস করেছেন ৮১ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বোর্ডে ৪ হাজার ৯৭৭ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

সিলেট বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৫ জন। পাস করেছেন ৬২ দশমিক ২৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

দিনাজপুর বোর্ডে ৬ হাজার ১১৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন ৪ হাজার ২৫১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।