০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসির ফলে ধস, প্রশ্নের মুখে শিখন ও মূল্যায়ন

“ঢাকা শহরের একটা ছেলের পড়ালেখা আর আমার শরণখোলার একটা ছেলের লেখাপড়া এক হবে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 12:55 AM

Updated : 01 Nov 2026, 12:55 AM

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম; তাতে ‘হতাশ ও বিস্মিত’ হয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ।

এমন বিপর্যয় কেন হল? ফল বিশ্লেষণ বলছে, নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি আর হিসাব বিজ্ঞানের সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে খারাপ ফলের ধাক্কায় এবার ধস নেমেছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে।

উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) ফলে এমন ধসের পেছনে ‘নির্মোহভাবে’ খাতা দেখা এবং শিক্ষার্থীদের শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখার কথা বলছে সরকার। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের ভাষ্যও একইরকম।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

এই হিসাবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনও এবারের মতো বাজে ফল আর হয়নি।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রামের বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়।

চট্টগ্রাম ও সিলেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সূত্র ধরে পরীক্ষা চলার মধ্যে তা পেছানোর দাবিতে ঢাকায় আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনা ঘটে।

ওই সময় সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জানায় শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা পিছিয়ে অন্য পরীক্ষা চালিয়ে নেয় সরকার। আর চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সচিবালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, “আমাদের নির্বাচিত সরকারের আয়োজিত প্রথম এই এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় আমরা নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছি। প্রত্যেকের খাতায় যে পরীক্ষা যেভাবে দিয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চাইছি এবং এই প্রথমবারের মতন থাকছে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষা।”

অকৃতকার্যদের এক বা দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি।

আর শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ফলাফলে এভাবে নিচের দিকে নেমে আসা কখনও কাম্য না।

“ঘাটতি আমাদের শিখন পদ্ধতিতে রয়েছে, অভিভাবকদের রয়েছে, পরিবেশ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে সেটাকে আমাদেরকে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং এটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে—এটাই আমাদের দায়িত্ব।”

এই ঘাটতি পূরণের জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষকদেররও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, একই প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও শহর-গ্রামে শিক্ষার্থীদের মানের তারতম্য এবং শিক্ষকদের যোগ্যতার ঘাটতির কারণে ইংরেজি ও হিসাব বিজ্ঞানে ফল খারাপ হওয়ার হার বেশি।

ফল বিশ্লেষণ করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরী বলেছেন, কোভিড মহামারীর পর থেকে বিগত কয়েক বছর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় তো বিঘ্ন ঘটেছে।

“কারণ, তারপরে নানান রকম আন্দোলন। পাসের যেরকম হার, ওই রকম পার্সেন্টেজে ছেলে-মেয়েরা ক্লাস করে।”

এর সঙ্গে পরীক্ষাগ্রহণ এবং খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কড়াকড়িও এমন ফলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক শামীমা আরা বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং করে কড়া পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষকদের ঠিকমতো পড়ে নম্বর দিতে বলা হয়েছে।

“এই কারণে রেজাল্টটা এরকম আসছে। মানে, লেখাপড়া করে বাচ্চাদের এই পর্যন্তই লেখার প্রস্তুতি আছে। একটা প্রকৃত চিত্রটা পাওয়া গেছে।”

ইংরেজি, হিসাব বিজ্ঞান ও আইসিটির ধাক্কা

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এ তিনটি শাখার আবশ্যিক বিষয় ইংরেজি এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে খারাপ ফলের সঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষার হিসাব বিজ্ঞান মিলে এবার এইচএসসিতে ফল খারাপ হওয়ার তথ্য মিলছে বিশ্লেষণে।

বিভিন্ন বোর্ডে ওই বিষয়গুলোর খারাপ ফলের প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলে।

নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাঁচটিতে ইংরেজিতে পাস করা শিক্ষার্থীর হার ৫৪ থেকে ৫৯ শতাংশের ঘরে। আর হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে পাসের হার তিনটি শিক্ষা বোর্ডে মাত্র ৫২ থেকে ৫৩ শতাংশ।

অপরদিকে আইসিটিতে ছয়টি বোর্ডে পাসের হার ৭০ শতাংশের ওপরে। আর বাকি তিনটি বোর্ডে পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে।

ইংরেজি ও হিসাব বিজ্ঞান উভয় বিষয়ে খারাপ ফলের ধাক্কায় বরিশাল বোর্ডের পাসের নেমেছে একেবারে তলানিতে। সবচেয়ে কম ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে ওই বোর্ডে।

বরিশাল বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করতে পেরেছে ৫৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী; আর হিসাব বিজ্ঞানে তারও কম, ৫২ দশমিক ২০ শতাংশ। এর সঙ্গে আইসিটি বিষয়ে পাস করেছে এই বোর্ডের ৬৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অতীতের চিত্র ফলাফলে এগিয়ে থাকলেও এবার এমন ফলে ‘হতাশ ও বিস্মিত’ হওয়ার কথা বলছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।

ওই তিন বিষয়ে খারাপ করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেক বছর পরে বোধহয় এ ধরনের সিচুয়েশন তৈরি হয়েছে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ পাস করেছে। এটা আমার কাছেও হতাশার লাগছে, কেন এই রকম হল।

“হয়ত ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমত বুঝতে পারেনি বা শিক্ষকদের মধ্যে ঘাটতি থাকতে পারে। এভাবে নিচে নেমে আসা আমার কাছেও একটা সারপ্রাইজড এবং হতাশার লাগছে।”

ইংরেজি ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বাণিজ্যিক মনোভাব কাজ করার কথাও উঠে আসছে এ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কথায়।

“আমি বলছি না আমাদের শিক্ষকদের দোষ নেই। দোষও আছে, গুণও আছে। কিছু শিক্ষক আবার এই শিখনটাকে নিয়ে একটু বাণিজ্যিক হিসাব করে,” বলেন তিনি।

ইংরেজি ও হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাবে রাজশাহী বোর্ডে পাসের সার্বিক পাসের হার ৪৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বোর্ড ভিত্তিক ফলে তাদের অবস্থান নিচ থেকে তৃতীয়।

ওই বোর্ডে ইংরেজিতে ৫৬ শতাংশ এবং হিসাব বিজ্ঞানে ৫২ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পেরেছে। আবার আইসিটিতে পাস করেছে এই বোর্ডের ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ওই তিন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের খারাপ করার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা বলেন, “অ্যাকাউন্টিং হচ্ছে কমার্সের সাবজেক্টের মধ্যে হার্ড সাবজেক্ট। ছেলে-মেয়েরা ওটা রপ্ত করতে পারে না।

“একেবারে রুট লেভেল পর্যন্ত ভালো টিচার নাই। আইসিটির ক্ষেত্রেও তাই। আইসিটির ভালো শিক্ষক টিচার নাই, ইংলিশের ক্ষেত্রেও তাই। এজন্য রুট লেভেলের ছেলে-মেয়েরা এই সাবজেক্টগুলো রপ্ত করতে ওদের একটু কষ্ট হয়। এজন্য ওই সাবজেক্টগুলোতে ফেইলের সংখ্যা বেশি।”

বোর্ড-ভিত্তিক ফলের ক্ষেত্রে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যশোর বোর্ডের ইংরেজি বিষয়ে পাস করেছে মাত্র ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর আইসিটিতে এই বোর্ডে ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং হিসাব বিজ্ঞানে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও দক্ষতা অনুযায়ী প্রাপ্য নম্বরটাই পেয়েছে বলে মনে করছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।

তবে, শহর-কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের তুলনায় গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকার কথা বলছেন তিনি।

অধ্যাপক হোসেন আলী বলেন, “আমরা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে কোনো রকম শৈথিল্য প্রদর্শন করি নাই। যার যেটা প্রাপ্য, সেভাবে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে।

“প্রশ্নতো ওভারঅল সারাদেশের সব শ্রেণির জন্যই এক। ঢাকা শহরের একটা ছেলের পড়ালেখা আর আমার শরণখোলার একটা ছেলের লেখাপড়া এক হবে না। এই কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর রেজাল্ট তুলনামূলক খারাপ। শহরেরগুলো ভালো।”

তলানিতে থাকা তিন বোর্ডের বাইরে দিনাজপুরে বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে ৫৬ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৯ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পেরেছে।

আর দিনাজপুর বোর্ডে হিসাব বিজ্ঞানে পাস করেছে ৫৩ শতাংশ আর ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৯৬ ভাগ শিক্ষার্থী।

আইসিটি বিষয়ে দিনাজপুর বোর্ডে পাস করেছেন ৭২ দশমিক শূন্য ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সার্বিক ফলে দিনাজপুর বোর্ডে মাত্র ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়গুলো মূলত দক্ষতানির্ভর, যেখানে আমাদের মূল কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলছেন, “মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হচ্ছে। ফলে ১০ বছরের যে লার্নিং গ্যাপ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে আসছে, তা মাত্র দুই বছরের সীমিত সময়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

অধ্যাপক মুজিবুর রহমানে মতে, শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব ও সরঞ্জামের অভাব শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

“ভাষা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা না কাটিয়ে নতুন বিষয়ে ঝুঁকে পড়ার চেয়ে মাতৃভাষা বাংলা ও মৌলিক ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

‘নির্মোহ’ মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন

বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রয়করা ঠিকমত পড়ে ‘নির্মোহভাবে’ খাতা মূল্যায়নের কথা বললেও এসএসসিতে পুনঃনিরীক্ষণের অভিজ্ঞতায় এখনকার মূল্যায়নেও ঘাটতি থাকার কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের এক্সামিনের সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করব, এক্সামিনারদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং ভ্যারিয়েশন যারা বেশি দিয়েছে তাদের জন্য পানিশমেন্টের ব্যবস্থা—সেগুলোরও কাজ চলছে।”

১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে চলতি বছরের এসএসসি থেকে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সব খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সারা দেশে ৪৫ হাজার জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।

“পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পান।”

এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কি-না সেটা আমরা দেখি।

“তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কি-না, সেই বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।”

৪০ হাজার জনের গ্রেড পরিবর্তন হওয়া এবং পাঁচ হাজার জনের অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হওয়া বড় সংখ্যা বলে মনে করছেন না যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হোসেন আলী।

তিনি বলেন, “১০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ হাজার পাস করলে সেটা অতো বেশি বড় নয়। অনেক সময় যোগ-বিয়োগের ভুলের কারণে এদিক-ওদিক হয়। সেখানে শুধু প্রাপ্ত নম্বরটা যোগ হয়, এখানে খাতা মূল্যায়নে যে নম্বরটা পেয়েছে, সেটাই শুধু সামনে এগোয়।”

খাতা মূল্যায়নে বড় রকমের অনিয়ম বা ঘাটতি থাকলে বোর্ডের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরে হোসেন আলী বলেন, “আমরা অনেকগুলো প্রধান পরীক্ষকদের খাতা দেখা বন্ধ করে দিয়েছি। অনেকের এক বছর, অনেককে সকল বোর্ডের সকল কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি আমরা।”

আর রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা বলেছেন, তার বোর্ডে এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর যে পরিবর্তন এসেছে, তা অতো বেশি ছিল না।

“আমাদের ৯৮ হাজার খাতা ছিল। তার মধ্যে এক হাজার ৪০০ জনের পরিবর্তন এসেছে। জিপিএ-৫ বেড়েছে দু’শত। তার মধ্যে যোগ-বিয়োগের বিভিন্ন রকম সমস্যা ছিল। এই সংখ্যাটা ভারসাম্যপূর্ণ।”

এবার এইচএসসিতে এসেও সবগুলো খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন। এজন্য শিক্ষার্থীদের বোর্ডে আবেদন করতে হবে ১ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে।