০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসির ফল বিপর্যয় নয়, পাসের হার ১০ শতাংশ বাড়তে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

“বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে আমি আশা রাখি।”

এইচএসসির ফল বিপর্যয় নয়, পাসের হার ১০ শতাংশ বাড়তে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 09:57 PM

Updated : 01 Nov 2026, 09:57 PM

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়াকে ‘ফল বিপর্যয়’ মনে করছেন না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।

তার আশা, বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ ও উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ আগে ছিল না।

“এ বছর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পদ্ধতি চালু করেছেন। এতে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হবে না। বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে আমি আশা রাখি। এসব প্রক্রিয়া শেষে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।”

ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে মূল্যায়ন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তার সাময়িক প্রভাব পড়েছে পাসের হারে। তবে আগামী পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

উপাচার্য বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষায় যে ফলাফল হয়েছে, সেটিকে আমি ফল বিপর্যয় মনে করি না। এটাকে স্বাভাবিক ফলাফলই বলব। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, গাইড করা এবং এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা দরকার ছিল, হয়তো আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে পারিনি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ দিতে চাই না। আমাদের অক্ষমতাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে। অনার্স পরীক্ষায় পাসের হারও ৬০ শতাংশের নিচে।

তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া, পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণে ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও পরীক্ষার প্রস্তুতি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

ফলাফলে হতাশ না হয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে উচ্চমাধ্যমিক কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

তিনি বলেন, যেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বসে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করা যাবে না। বরং তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে।

প্রয়োজনে কলেজের নিয়মিত সময়ের বাইরে এবং শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব বিষয়ের শিক্ষকদের বাড়তি সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মত বিবেচনা করে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনা সম্মানীতে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। আগামী এক-দুই মাস শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হতাশ হওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীসংখ্যা আবার বাড়বে।

“আমি মনে করি, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার বেড়ে যাবে। এখন শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে, পাস করতে হলে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষকেরাও বুঝেছেন, তাঁদের কী করণীয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।”