Published : 21 Sep 2025, 05:52 PM
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের বলেছে, তাদেরকে অবশ্যই ‘অনুমোদিত নয়’ এমন তথ্য প্রকাশ না করার ব্যাপারে রাজি হতে হবে, নাহলে তাদের পেন্টাগনে ঢোকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
এই পরিবর্তন এসেছে একাধিক নতুন বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে; সম্প্রতি যুদ্ধ মন্ত্রণালয় নাম নেওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন ভবনের ভেতর সাংবাদিকদের চলাফেরাও সীমিত করতে চাইছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক তথ্য ফাঁসের পর নতুন এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বলছে বিবিসি।
কিছুদিন আগেই যুদ্ধমন্ত্রীর নতুন খেতাব পাওয়া পিট হেগসেথ এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “প্রেস পেন্টাগন চালায় না, চালায় মানুষজন। প্রেসকে এখন থেকে আর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটিতে অবাধে ঘোরাফেরা করতে দেওয়া হবে না। ব্যাজ পরুন এবং নিয়মকানুন মেনে চলুন, না হলে বাড়ি চলে যান।”
গণমাধ্যমের সদস্যদের কাছে একটি ব্রিফিং নোটে নতুন এ বিধিনিষেধগুলো পাঠানো হয়েছে; পেন্টাগনে ঢোকার অনুমতিপত্র বহাল রাখতে হলে তাদেরকে ওই ব্রিফিং নোটে স্বাক্ষর করতে হবে।
মার্কিন এ মন্ত্রণালয় বলছে, “জবাবদিহিতা ও জন আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার বহাল আছে। তবে যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের আগে অবশ্যই অনুমোদনকারী কর্মকর্তার অনুমতি থাকতে হবে, এমনকী ওই তথ্য পুরোপুরি গোপনীয় না হলেও।”
সাংবাদিকদের ভবনে প্রবেশে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য বা গোপন নয় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশ, প্রবেশের চেষ্টা বা প্রকাশের ওপর যে প্রেসের ক্রেডেনশিয়াল (সাংবাদিকদের ভবনে প্রবেশাধিকার) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে, ব্রিফিং নোটে স্বাক্ষরকারীদের তা মেনে নিতে বলা হয়েছে।
“পেন্টাগনে প্রবেশাধিকার পাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্মারকে নির্দেশনাগুলো আসলে সেই মানদণ্ডই অনুসরণ করছে, যা দেশের প্রতিটি সামরিক ঘাঁটিতে আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।
“এগুলো সাধারণ ও বোধগম্য নির্দেশনা, যার উদ্দেশ্য হলো সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখা, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং পেন্টাগনে কর্মরত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,” বিবৃতিতে বলেছেন পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল।
মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ অবশ্য কিছুদিন আগে নিজেই সংবেদনশীল তথ্যের তত্ত্বাবধান নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মার্চে এক গ্রুপ চ্যাটে তিনি ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেছিলেন, অথচ ওই গ্রুপে এক সাংবাদিকও ছিলেন। পরে এই ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
মার্কিন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ প্রতিরক্ষমন্ত্রীসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চ্যাটে অসাবধানতাবশত ওই সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওয়াল্টজ সম্প্রতি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মনোনীত হয়েছেন।
জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সরকারি অবস্থানের সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভাষ্যে গরমিল মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে চলে আসে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ায় ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বেশ ক্রুদ্ধ হয়েছিল।