Published : 18 Dec 2025, 09:27 PM
অস্ট্রেলিয়ায় সিডনির বন্ডাই সৈকতে ইহুদি উৎসবে বন্দুক হামলার পর বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে নতুন আইন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
গত রোববারের ওই হামলার ঘটনাটি প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া নির্বিচার গুলিবর্ষণের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। এতে ১৫ জন নিহত হওয়াসহ আরও অনেকে আহত হন।
এটিকে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত করা হচ্ছে।
রাজধানী ক্যানবেরায় সাংবাদিকদেরকে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “যারা ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রবাদ ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন আইন আনা হবে।”
তিনি জানান, যারা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ান এমন ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যানের নতুন ক্ষমতা দেওয়া হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ, মোকাবেলা ও সঠিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
নতুন আইনে সহিংসতা উসকে দেওয়া ধর্মীয় প্রচারক ও নেতাদের জন্য শাস্তির বিধান থাকবে। ‘অ্যাগ্রাভেটেড হেইট স্পিচ’ নামে নতুন ফেডারেল অপরাধ এবং অনলাইন হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে সাজা নির্ধারণে ‘ঘৃণা’কে বাড়তি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আলবানিজ বলেন, “প্রত্যেক ইহুদি অস্ট্রেলীয়র নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করার অধিকার রয়েছে। আমাদের জাতিতে তাদের অবদানের স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারও রয়েছে।”
তিনি বলেন, “জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা অস্ট্রেলীয়দের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চেয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলীয়রা এই ঘৃণার জবাবে শোকাহতদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছে।”
হামলার পর থেকে দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানায়, ‘সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডের’ তথ্যের ভিত্তিতে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ডাই সৈকতে হামলার সঙ্গে এর কোনও সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি। জর্জ স্ট্রিট এলাকায় দুটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের রাস্তায় লোকজনকে আটক করতে দেখা যায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইহুদিবিদ্বেষ বিষয়ক দূত জিলিয়ান সেগালও বলেন, “এটি শুধু আমাদের কমিউনিটির জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।”
ওদিকে, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে সেগাল যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তার সুপারিশগুলো সরকার ‘পূর্ণভাবে সমর্থন ও গ্রহণ’ করবে।
তবে প্রতিবেদনের কিছু সুপারিশ, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ এবং ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে তহবিল বন্ধের প্রস্তাব, মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এসব ব্যবস্থা ফিলিস্তিনপন্থি প্রতিবাদ দমনে ব্যবহার হতে পারে।
‘ইহুদি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া’ সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বলেছে, ঘোষণার কিছু অংশ সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
সংস্থাটির নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স কাইজার বলেন, ইসরায়েল নিয়ে বৈধ সমালোচনা দমন করা হলে তা ইহুদিবিদ্বেষ কমানোর বদলে উল্টো ফল দেবে।
আলবানিজ স্বীকার করেন, গত ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে ঢুকে হামলা এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ রোধে সরকার আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায় স্বীকার করছি। তবে একই সঙ্গে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্বও আমার।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, সরকার বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ‘সীমারেখা বদলাচ্ছে’, যাতে সহিংসতায় না পৌঁছালেও অমানবিক ও বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।