Published : 03 Jun 2026, 11:13 PM
বিদ্রোহে টালমাটাল অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে। বুধবার ঋতব্রতকে দলনেতা চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন দলের ৫৮ বিধায়ক।
এরপরই এক্সে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি পোস্টে জানানো হয়, দলের সব সাংগঠনিক কমিটি এবং সব শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
পোস্টে তৃণমূল লিখেছে, “সতর্ক বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক কমিটি এবং দলের সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান কমিটিগুলো অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
“দল সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার বিস্তৃত প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে মূল দল এবং সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে এবং যথাসময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
“তৃণমূল কংগ্রেস তার সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করতে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন উদ্যম ও লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”
টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকার পর এবছর অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি)। এরপর ভাঙনের মুখে পড়েছে দলটি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ হারানোর পর সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনয়ন দেন তিনি। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের বিধানসভার বেশ কয়েকজন সদস্য বিদ্রোহ দেখায়।
বুধবার তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক নতুন বা আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার ঘোষণা দেন। এই নতুন তৃণমূলের যে চিঠি জমা পড়েছে অধ্যক্ষের কাছে সেখানে দলনেত্রী হিসাবে পরিষ্কারভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম লেখা থাকলেও পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনোনীত করা হয়েছে।
উপ দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসেবে নাম জমা দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানের।