Published : 14 Jan 2026, 11:45 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার একথা জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে টান টান উত্তেজনাকেই সামনে আনছে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ।
ঊর্ধ্বতন এক ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরানের বিক্ষোভে ওয়াশিংটন নাক গলালে আঞ্চলিক দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হমলা চালানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যেই কয়েকদিন ধরে ইরানে বিক্ষোভকারী হত্যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। যদিও তিনি কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন সেটি খোলাসা করে বলেননি।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।
এরপরই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে সেসব দেশকে হুঁশিয়ার করেছে। ইরানের এই হুমকির মুখে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রয়োজন ছাড়া না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপের বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে কাতারের ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অফিস আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা’-র পরিপ্রেক্ষিতে আল-উদেইদ থেকে কিছু সদস্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অফিস বলেছে, “কাতার তার নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ। সেখানে আছে প্রায় ১০ হাজার সেনা। গত বছরের জুনে মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান।