Published : 20 Jan 2026, 07:22 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ ফ্রান্সকে যোগ দেওয়াতে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
মূলত গাজা সংকট এবং অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন করতে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তার এই ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে প্রথমে গাজা এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাত নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও এটি সরাসরি জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ম্যাক্রোঁ এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে চান বলে জানিয়েছেন তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
মাক্রোঁর এই অবস্থানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তিনি কি তাই বলেছেন? আসলে কেউ তাকে চায় না, কারণ খুব শিগগিরই তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
এরপরই মাক্রোঁকে চাপে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি ফ্রান্সের ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব। তখন তিনি ঠিকই যোগ দেবেন। তবে তাকে যোগ দিতেই হবে এমন কোনও কথা নেই।”
মাক্রাঁ বর্তমানে দাভোসে অবস্থান করছেন এবং ট্রাম্প সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার প্যারিসে ফেরার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তাও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন, যেখানে মাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ফরাসি মদ ও স্পিরিটের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪ সালে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর চালান সেখানে পাঠানো হয়েছে।
ইইউ দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া মদ ও স্পিরিটের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ শুল্ক হার রয়েছ। এই শুল্ক কমিয়ে শুন্যে আনার জন্য ফরাসিরা লবিং করছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন শুল্কের হুমকিতে এই শিল্প বিনিয়োগের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই শ্যাম্পেন উৎপাদনকারী প্রধান প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ-এর শেয়ারের দর ২ শতাংশ কমে গেছে।
ফ্রান্সের কৃষি মন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্ড এই হুমকিকে ‘নিষ্ঠুর’ এবং ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই উত্তেজনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
রয়টার্সের হাতে আসা মার্কিন প্রশাসনের খসড়া নথি অনুযায়ী, ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য হতে হলে দেশগুলোকে ১শ’ কোটি ডলার নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে, যদি তারা তিন বছরের বেশি সময় সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে চায়।
গত বছর সেপ্টেম্বরে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ট্রাম্প প্রথম এই শান্তি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এ সংক্রান্ত খসড়া সনদ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।