Published : 22 Feb 2026, 07:04 PM
আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় রাতভর একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আফগান তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এর সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন সাতটি জঙ্গি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে আফগানিস্তান বলছে, একাধিক বেসামরিক ঘরবাড়ি ও একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় হামলা হয়েছে। নানগারহারের বিসুদ জেলার গির্দি কাস গ্রামে শাহাবুদ্দিন নামে একজন সাংবাদিকদের জানান, হামলায় তার পরিবারের ২৩ সদস্যের মধ্যে মাত্র পাঁচজন বেঁচে আছেন।
স্থানীয় তালেবান মুখপাত্র সৈয়দ তৈয়ব হামদ নিশ্চিত করেছেন যে, ওই পরিবারেরই ১৮ জন সদস্য নিহত হয়েছে। বিবিসি-কে আগে জানানো হয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ২০ হতে পারে।
তবে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল ও উরগুন জেলায় একটি গেস্ট হাউস ও ধর্মীয় স্কুলে হামলা চালানো হলেও সেগুলো সে সময় খালি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি সন্ত্রাসী ক্যাম্প ও আস্তানায় ‘সিলেক্টিভ টার্গেটিং’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেট-খোরসান প্রদেশের জঙ্গিরা এসব আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিল।
পাকিস্তানের দাবি, চলতি মাসে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে হামলা এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রমজান শুরু হওয়ার পর যে সব আত্মঘাতী হামলা হয়েছে, তার ‘প্রতিশোধমূলক জবাব’ হিসেবে তারা আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে তাদের কাছে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে যে এসব হামলা আফগানিস্তানে অবস্থানরত নেতৃত্বের নির্দেশে হয়েছে।
তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে আফগানিস্তানের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেছে। তালেবান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যথাযথ সময়ে এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।”
তারা আরও দাবি করেছে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতারই পরিচায়ক।
গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এমনকি এই সপ্তাহেই সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে আটক হওয়া তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয় কাবুল।
তবে সেই শান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এই বিমান হামলা দুই দেশের ১ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্ত এলাকাকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে।