Published : 23 Jan 2026, 10:08 AM
ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘বিশাল বহর’ উপসাগরের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ‘সম্ভাবনা কম’ বলে তিনিই কিছুদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এরপরও ওয়াশিংটন যে সামরিক বিকল্প ‘তাকে তুলে রাখেনি’ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে সে আভাসই মিলল, প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন এমনই বলছে বলে এনডিটিভিতে উঠে এসেছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তেহরান আন্দোলনকারী অনেককে ফাঁসি দেওয়ার চিন্তা থেকে সরে এসেছে দাবি করে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ওই হামলার বিষয়ে পিছু হটেন।
তার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর হামলাকারী নৌবহর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গত সপ্তাহেই মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টও উপসাগরে সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
“আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি। আপনারা জানেন আমাদের অনেকগুলো জাহাজ ওই পথে যাচ্ছে, যদি দরকার হয়। আমাদের বিশাল বাহিনী ইরানের পথে রয়েছে।
“আমি চাই না কিছু হোক, কিন্তু তাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। হয়তো আমাদের ওই ‘বহর’ বা ‘বিশাল নৌশক্তিকে’ ব্যবহার করতে হবে না,” সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার হামলার হুমকিতেই ইরানে ৮৩৭ বিক্ষোভকারীরা ফাঁসি থেমেছে বলেও জোরের সঙ্গে দাবি করেন তিনি। রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায়ও প্রস্তুত।
এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বুধবারই প্রথম গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিল। তাদের হিসাবে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ-সহিংসতায় ‘দাঙ্গাকারী’ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে।
এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে শঙ্কা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর।
গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত করার লক্ষ্যে এরপর ট্রাম্প বারবারই ইরানের ওপর নতুন ‘হামলা চালানোর’ হুমকি দিয়ে গেছেন।
তার হুমকির বাস্তবায়ন মধ্যপ্রাচ্য এমনকী এর বাইরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছেন।