চা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বাগান মালিকদের সঙ্গে বসবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী
দুবাইয়ের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী।
চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নে বাগান মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরের যুগলটিলা এলাকায় ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, দেশের চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, “চা শ্রমিকদের মানসম্মত অবস্থানে থাকা উচিত। তাদের পরিবার যেন চিকিৎসাসেবা পায়, অন্ন-বস্ত্রের নিশ্চয়তা থাকে, ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা হয় এবং সন্তানরা মানসম্মত শিক্ষা লাভ করতে পারে- এসব বিষয় নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।”
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারা শুধু সাপ্তাহিক মজুরি পান না, পাশাপাশি আবাসন, রেশন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুবিধাও পান। পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে বা কর্মক্ষমতা হারালে পরিবারের অন্য একজনকে চাকরির সুযোগ দেওয়ার রীতিও চা বাগানে রয়েছে।”
শ্রমমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দুবাইয়ের শ্রমবাজার নিয়ে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুবাইয়ের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি জানা যাবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে।
এর আগে রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির পরিবেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে আসছেন। ধর্মীয় আয়োজনগুলোতে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে ভারত হাইকমিশনের সিলেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস উপস্থিত ছিলেন।
