Published : 16 Jul 2026, 09:20 PM
দেশের মানুষের কাছ থেকে কটু কথা তো আর কম শোনেননি লিওনেল মেসি! বার্সেলোনার ছন্দ আর্জেন্টিনার জার্সিতে টেনে আনতে পারেন না, একটা সময় নিয়মিতই বিদ্ধ হতেন এই তীর্যক অভিযোগে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর, অভিযোগের স্রোত একটু কমে। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর তার থেমে যায়। তবে, মেসি খুব ভালো করেই জানেন, থেমে থাকা সমালোচনার স্রোত ফের বইতে শুরু করতে পারে যেকোনো মুহূর্তে!
আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়া দলকে সমতার স্বস্তি এনে দেন এন্সো ফের্নান্দেস। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস।
কিন্তু আর্জেন্টিনা যদি হেরে যেত এই ম্যাচ? তাহলে?
ফের্নান্দেস ও মার্তিনেসের গোলে অবদান রাখা মেসি ম্যাচ শেষে টিওয়াইসিকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের উচ্ছ্বাস, টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে কথা বললেন মন খুলে। সেখানে, স্বাভাবিকভাবে উঠে এলো আর্জেন্টিনার মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা, তাদের চাওয়া-পাওয়ার অনন্ত চাহিদাও।
ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টাইনদের তিক্ত স্মৃতির কারণেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা জরুরি ছিল, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মেসি।
“যেমনটা একটু আগেই বললাম, মানুষকে আনন্দ দিতে পেরে আমরা গর্বিত, আনন্দিত। বিশ্বকাপ আমাদের জন্য বিশেষ কিছু এবং এ সময় আমরা অনেক প্রতিকূলতা ভুলে যাই, যেগুলোর মুখোমুখি প্রতিনিয়ত হই। এমন মানুষ আছে, যারা চাকুরীহীন, মৌলিক চাহিদাগুলোর পূরণ করতে হিমশিত খায় কিংবা সংগ্রাম করে-এই মানুষগুলোকে আনন্দ দিতে পারা, আরও একবার ফাইনালে খেলা বিশেষ কিছু।
“ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল স্পেশাল, এটা আমরা হারতে পারতাম না। দেখুন, এই দলটা কারো কাছে ঋণী নয়, কিন্তু আপনিও জানেন আর্জেন্টাইনরা কেমন, আমরা সবসময় আরও বেশি চাই এবং আমি মনে করি, আজ যদি হেরে যেতাম, তাহলে তারা তেঁড়েফুড়ে বেরিয়ে আসত এবং আজেবাজে কথাবার্তা বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগটা দেইনি। জানতাম, ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাদের চেয়ে ভালো, কিন্তু এই ধরনের ম্যাচে অনেক ঝুঁকি থাকে, ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে।”
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ছিল দাপুটে। কিন্তু নকআউট পর্বে এসে ধুঁকতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে। কেইপ ভার্ড ও মিশর কঠিন পরীক্ষা নেয় তাদের। কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডও। ইংল্যান্ডও প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল। ফের্নান্দেসের ৮৫তম মিনিটের গোলের আগ পর্যন্ত তাই ছিল হারের প্রবল চোখ রাঙানি। কিন্তু মেসি বললেন, কখনই বিশ্বাস হারাননি তারা।
“টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা রোমাঞ্চকর, এই দলটা অবিশ্বাস্য। আজও পরিস্থিতি যখন কঠিন হয়ে উঠেছিল, আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম। আমরা কখনই বিশ্বাস হারাইনি, চেষ্টা থামাইনি। পিছিয়ে থাকার পরও আমরা নিজেদের কৌশলে খেলেছি। আমরা ইংল্যান্ডকে তাদের অর্ধে ঠেলে দিয়েছিলাম এবং এটা (জয়) বিশাল আনন্দের।
“সত্যি বলতে, আমাদের যেসব অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তা অবিশ্বাস্য। সত্যি বলছি, বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে এই দলটার প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল এবং জানতাম, আমরা টিকে থাকব, ট্রফির জন্য লড়াই করব এবং হ্যাঁ, আমরা আরেকবার ফাইনালে উঠলাম। আমার মনে হয়, টানা পাঁচ ফাইনাল খেলছি, এর মধ্যে বিশ্বকাপে টানা দুই বার…অবিশ্বাস্য।”
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে রোববার স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে দেশের সাথে মেসির খুব গভীর সম্পর্ক। তার আজকের মেসি হয়ে ওঠা বার্সেলোনায়। প্রিয় বার্সেলোনায় খেলা অনেকের মুখোমুখি হতে হবে এবার। বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে খেলা এই ফরোয়ার্ডের মনে তাই অন্যরকম দোলাচল।
“চমৎকার সব খেলোয়াড় নিয়ে দুর্দান্ত একটা দল স্পেন। তাদের খেলার কৌশলও অসাধারণ। এই দলটাকে আমি খুব ভালোভাবে জানি। দীর্ঘদিন ধরে তারা একই দর্শনের ফুটবল খেলছে। এই খেলোয়াড়দের সম্পর্কেও জানি। আমি তাদের (অনেকের) বিপক্ষে খেলেছি, কয়েকজন আছে বার্সেলোনার, যে দলটাকে আমি ভালোবাসি, সমর্থন করি। এটা বিশেষ ম্যাচ, বিশ্বকাপ ফাইনাল। কল্পনা করতে পারছি, ভীষণ আঁটসাঁট একটা ম্যাচ হবে।”