Published : 09 Feb 2026, 03:39 PM
কারামুক্ত সরকারবিরোধী রাজনীতিক হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে ‘গৃহবন্দি’ রাখতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানী কারাকাস থেকে গুয়ানিপা অপহৃত হয়েছেন বলে তার ছেলে র্যামন ও ঘনিষ্ঠ মিত্র নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর অভিযোগের পর এ অনুমতি চাওয়ার কথা জানা গেল।
রোববার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় সরকারি মামলার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় বলেছে, গুয়ানিপা তার মুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
কি শর্ত ছিল, কীভাবে তা ভঙ্গ হয়েছে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা; তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা বিবৃতিতে তারও উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ৮ মাসেরও বেশি সময় জেল খাটার পর রোববারই ছাড়া পেয়েছিলেন মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র গুয়ানিপা। কারাগারে যাওয়ার আগে অনেকদিন তাকে পালিয়েও বেড়াতে হয়েছে।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার পর ওয়াশিংটনের চাপে লাতিনের দেশটির সরকার একটি দায়মুক্তি আইন পাস করে অনেক বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া শুরু করে।
তারই অংশ হিসেবে রোববার গুয়ানিপাও ছাড়া পান।
কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর গুয়ানিপার ছেলে র্যামন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে বলেন, অজ্ঞাত ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকা এসে তার বাবাকে তুলে নিয়ে গেছেন। যারা তুলে নিয়ে গেছেন তাদেরকে ‘কর্মকর্তা’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।
“আমার বাবা ফের অপহৃত হয়েছেন। তিনি যে জীবিত আছেন, শিগগির তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি,” বলেছেন র্যামন।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পুরস্কারস্বরূপ নোবেল জেতা মাচাদো-ও গুয়ানিপার মুক্তি চেয়েছেন।
“চারটি গাড়িতে করে আসা সাধারণ পোশাকের সশস্ত্র লোকজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে,” রাজধানী কারাকাসের লোস চোরোস এলাকা থেকে গুয়ানিপা অপহৃত হয়েছেন জানিয়ে দেওয়া এক্স পোস্টে এমনটাই বলেছেন এ নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী।
অথচ রোববার দিনের বেলাতেই হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা সাংবাদিক ও একদল উল্লসিত সমর্থকের সঙ্গে কথা বলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। তিনি অন্যান্য রাজবন্দিদেরও মুক্তি চেয়েছিলেন, ক্ষমতাসীন সরকারকে বলেছিলেন ‘অবৈধ’।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরো জালিয়াতি করে জয়ী হয়েছিলেন বলে অনেক পশ্চিমা দেশই অভিযোগ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ মাদুরোর সরকারকে বৈধ বলে মেনেও নেয়নি।
স্থানীয় এক অনলাইন মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুয়ানিপা বলেছিলেন, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মাচাদোর সঙ্গে সামান্য কথা হয়েছে। পরেরদিন বিস্তারিত কথা বলারও আশা ছিল তার।
ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী গোষ্ঠী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সোশালিস্ট সরকার ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও আটককে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে।
তবে সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা কাউকে রাজনৈতিক কারণে আটক করেনি, যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধের অভিযোগ আছে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এরই মধ্যে প্রায় ৯০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। তবে কখন থেকে এ বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে তা জানায়নি তারা। তাদের দেওয়া সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক বছরে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরাও থাকতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন।
সামনে আর কাকে কাকে ছাড়া হবে তার তালিকাও দেয়নি ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার।
মানবাধকার গোষ্ঠী ফোরো পেনাল জানিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সরকার নতুন করে বন্দিমুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার পর্যন্ত ৩৮৩ রাজবন্দিকে ছেড়েছে বলে তাদের হিসাব বলছে। রোববার আরও ৩৫ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে আছে সরকারবিরোধী রাজনীতিক ফ্রেডি সুপারলানো ও আইনজীবী পারকিনস রোচা, এরা দুজনও মাচাদোর মিত্র হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফোরো পেনালের পরিচালক আলফ্রেডো রোমেরো বলেছেন, গুয়ানিপাকে কারা তুলে নিয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
কারামুক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ‘অপহৃত’ ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী রাজনীতিক