Published : 11 Jan 2026, 09:42 PM
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি অভিযোগ করে বলেছেন, ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদেরকে জবরদস্তি বাস্তুচ্যুত করে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা করেছেন তিনি।
শনিবার আল-জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, সোমালিয়ার কাছে নিশ্চিত তথ্য আছে যে, ফিলিস্তিনিদেরকে স্থানান্তর করা এবং তাদেরকে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলের আছে।
তিনি এমন এক প্রেক্ষাপটে এ অভিযোগ করলেন, যখন দীর্ঘদিন ধরে সোমালিয়ার কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে এসেছেন যে, ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সোমালিল্যান্ডে সরাতে পারে। যদিও স্ব-শাসিত এই অঞ্চল এবং ইসরায়েল উভয়ই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও কখনও জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। তবে ইসরায়েল গতবছর ডিসেম্বরে প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ফিলিস্তিনিদেরকে সোমালিল্যান্ডে জোর করে স্থানান্তর করাটা ‘ইসরায়েলের চুক্তির অংশ না’ বলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার গত সপ্তাহে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের বহু বিষয় আছে, যা আমরা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাব… আমি বলতে পারি, ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর আমাদের চুক্তির অংশ নয়।”
তবে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিতে আসলে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি ঘোষণার পর থেকে কোনও পক্ষের কর্মকর্তারাই কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি।
তবে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এর আগে আল- জাজিরাকে বলেছিলেন, সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের তিনটি শর্ত মেনে নিয়েছে। এগুলো হল: ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, এডেন উপসাগরের উপকূলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের’ (সোমালিল্যান্ড) কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছরের শেষদিকে সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের ঘোষিত স্বীকৃতিকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর ‘সরাসরি আঘাত’ বলে বর্ণনা করেছেন ফিকি।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে ভেঙে খণ্ড খণ্ড করার কৌশল অনুসরণ করছে এবং সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ।
আল-জাজিরাকে ফিকি বলেন, “বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করার লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের- সম্ভবত ২০ বছরের। তারা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বিভক্ত করা এবং এর দেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়। সেকারণেই তারা সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে খুঁজে নিয়েছে।”