Published : 17 Dec 2025, 10:52 PM
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে পরিত্যক্ত কালান্দিয়া বিমানবন্দরের জায়গায় অবৈধ বসতিতে ৯ হাজার নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব জেরুজালেমকে আশেপাশের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং পশ্চিম তীরকে দুইভাগে ভাগ করার লক্ষ্যেই ইসরায়েল এ পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে পূর্ব জেরুজালেম সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনও সম্ভাবনা না থাকে।
ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাউ জানায়, উত্তর পূর্ব জেরুজালেমের আতরোত পাড়ায় (স্থানীয়ভাবে কালান্দিয়া বিমানবন্দর এলাকা নামে পরিচিত) বসতি গড়ার এ পরিকল্পনা নিয়ে বুধবার জেলা পরিকল্পনা ও ভবন কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে এবং এর রূপরেখা অনুমোদন করা হবে।
এই প্রকল্প ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে ইসরায়েলের নেওয়া ই-ওয়ান পরিকল্পনাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
পিস নাউ জানিয়েছে, নতুন আবাসন ইউনিটগুলো একটি ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চলের ভেতর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে শুরু করে উত্তর দিকে কাফর আকাব পর্যন্ত বিস্তৃত।
কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির, আর-রাম, বেইত হানিনা ও বির নাবালার মধ্য দিয়ে চলে গেছে এই এলাকা। এই অঞ্চলে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শতসহস্র ফিলিস্তিনি বাস করে এমন এলাকায় তৈরি হবে একটি ইসরায়েলি ছিটমহল। এর লক্ষ্য হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় ফিলিস্তিনের উন্নয়ন বন্ধ করা এবং একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নস্যাৎ করা।
পিস নাউ বলছে, এটি একটি ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে আশপাশের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগের কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না। ফলে কার্যত এতে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকার ভবিষ্যতে শান্তি ও সমঝোতার কোনওরকম সম্ভাবনার সুযোগ নস্যাৎ করতে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাচ্ছে।
এই পরিকল্পনার সূচনা হয়েছিল ২০২০ সালের শুরুতে। সে সময় ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় এ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করতে জেরুজালেম পৌরসভায় পাঠিয়েছিল।
কয়েক মাসের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ হলেও পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আপত্তির মুখে পরিকল্পনাটি আটকে যায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছিল বলে জানিয়েছে পিস নাউ।
পরিকল্পনাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে হলে এটি নিয়ে আরও সরকারি বিচার-বিবেচনা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এরপর ঠিকাদার বাছাইয়ের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
সূত্র: আল-জাজিরা।