Published : 06 May 2026, 12:58 AM
পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার পর আইনি লড়াই করে নাম ফিরে পাওয়া মোতাব শেখ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন।
দ্য স্ক্রল ডটইনের খবরে বলা হয়, রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা আসন থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মত নির্বাচন করে ৮ হাজারের বেশি ভোটে তিনি পরাজিত করেছেন বিজেপি প্রার্থী সুধীর চৌধুরীকে।
সোমবার ঘোষিত নির্বাচনের ফলে মোতাব চৌধুরীর জয়কে ভিন্নভাবে উদযাপন করছে কংগ্রেস। কারণ গোটা নির্বাচনে ২৯৩ আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। তার মধ্যে একটি মোতাব শেখের ফারাক্কা।
পশ্চিমবঙ্গে ‘বিতর্কিত’ এসআইআর প্রক্রিয়ার পর শুনানিতে লাখ লাখ মানুষের মত মোতাব শেখেরও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
তবে নিজের অধিকার ফিরে পেতে ৫৮ বছর বয়সী মোতাব সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং তার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন।
নির্বাচনের মাত্র ১৮ দিন আগে ৫ এপ্রিল মোতাব শেখকে বৈধ ভোটার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় আপিল ট্রাইব্যুনাল। এসআইআর নিয়ে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া এটিই ছিল প্রথম মামলা।
প্রথম দফার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের ঠিক আগের দিন শীর্ষ আদালতের এই রায় পান মোতাব। এরপরই কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থিতার মনোনয়ন জমা দিয়ে এখন পাল্টে গেছে তার জীবন।
রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম আদেশে বলেছিলেন, শুনানির সময় মোতাব শেখের নাম বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ বা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা না করার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের ‘প্রযুক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছিল। অথচ নাগরিকত্বের প্রশ্নে মোতাব শেখের জমা দেওয়া পাসপোর্টটি যথেষ্ট প্রমাণ ছিল এবং কোনো রেকর্ডেই তার বাবার নামে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।
একইরকম আরেকটি একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ মোত্তাকিন আলমের নামও ট্রাইব্যুনাল ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করেছিল। ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বয়স বা বাবার নাম সংক্রান্ত অসঙ্গতির যুক্তিগুলো ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বৈধ কারণ নয়।
মোত্তাকিন আলমও রাজ্যের রতুয়া কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে তিনি ৩১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ওই আসনে লাখের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরই পশ্চিমবঙ্গে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এখনো লাখ লাখ মামলা বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এর সঠিক সংখ্যাটি এখনও অস্পষ্ট।