৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি: মুক্তি পেল ১৩ ইসরায়েলি, ৩৯ ফিলিস্তিনি

কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় এদের মুক্তি দেওয়া হয়।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি: মুক্তি পেল ১৩ ইসরায়েলি, ৩৯ ফিলিস্তিনি

ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2023, 11:58 AM

Updated : 25 Nov 2023, 11:58 AM

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস তাদের হাতে বন্দি শিশু ও বয়স্ক নারীসহ ১৩ জন ইসরায়েলিকে মুক্তি দিয়েছে, এর বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে ৩৯ ফিলিস্তিনি।

রেড ক্রস মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলিদের গাজা থেকে প্রথমে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিশরে নিয়ে যায়, সেখানে মিশরীয় এক হাসপাতালে তাদের মেডিকেল চেকআপ করা হয়। এখানে থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তি পাওয়া এসব ইসরায়েলির মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ৯ বছর বয়সী চারটি শিশু এবং ৮৫ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধা রয়েছেন।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের তৈরি করা ৩০০ জন নারী ও শিশুর একটি তালিকা থেকে এদের বেছে নেওয়া হয়। এই দলে ২৪ জন নারী ও ১৫ জন কিশোর রয়েছেন।

তাদের ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর কাছে বেইতুনিয়া চেকপয়েন্টে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখান থেকে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ।

মুক্তি পাওয়ার পর একটি বাস এই ফিলিস্তিনিদের বহন করে গন্তব্যে নিয়ে যায়। বাসটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল রাস্তার দুইপাশে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

Image

ছবি: রয়টার্স

এ সময় বাসটির জানালা দিয়ে দেখা যায়, মুক্তি পাওয়া কিছু ফিলিস্তিনি নাচছেন, একজন গায়ে ফিলিস্তিনি পতাকা জড়িয়ে রেখেছেন। বাইরে জনতা মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আওয়াজ তুলছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন হামাসের পতাকাও দোলায়। ভয়াবহ একটি যুদ্ধের মধ্যে বিজয় উদযাপনের একটি মুহূর্ত তৈরি হয়। 

কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় এদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী গাজায় যুদ্ধরত পক্ষ দুটির মধ্যে চার দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। শুক্রবার গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, যা সোমবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলিরা ফেরার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “এখন আমাদের জিম্মিদের মধ্যে প্রথম কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনা সম্পন্ন করেছি আমরা। শিশু, তাদের মা ও অন্য নারীরা ফিরে এসেছে। তাদের প্রত্যেকে এক একটি পুরো বিশ্ব।

“কিন্তু আমি জোর দিয়ে বলছি, এই পরিবারগুলোকে ও আপনাদের- ইসরায়েলের নাগরিকদের: আমরা আমাদের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” 

কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির পাশাপাশি মিশরের মধ্যস্থতায় তাদের হাতে বন্দি থাকা থাইল্যান্ডের ১০ নাগরিক ও ফিলিপিন্সের এক নাগরিককে মুক্তি দেয় হামাস।

তবে হামাসের হাতে থাইল্যান্ডের আরও ২০ জন নাগরিক বন্দি আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বন্দি এসব থাই নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক ব্যবহার করা হবে এবং তাদের শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। পাশাপাশি জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া থাই নাগরিকরা ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর দেশে ফিরে যাবে। 

Image

ছবি: রয়টার্স

কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলাকালে মোট ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস, এর বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে বন্দি থাকা ১৫০ জন ফিলিস্তিনি মুক্তি পাবে।

গত ৭ অক্টোবর গাজার সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের নজিরবিহীন হামলা সবাইকে হতবাক করে দেয় এবং সাধারণ ইসরায়েলিরা হতভম্ব হয়ে পড়ে।

সেই হামলায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং তাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৪০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখে হামাস। এরপর মাত্র ৫ জন মুক্তি পেয়েছিল।

হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রায় সবদিক থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। তাদের অবিরাম বোমাবর্ষণ ও গোলা হামলায় ১৪ হাজারেরও বেশি গাজাবাসী ফিলিস্তিনি নিহত হয়, এদের প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু।