Published : 30 Jul 2025, 04:49 PM
ক্রান্তীয় ঝড় কো-মের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চীনের সাংহাই নগর কর্তৃপক্ষ দুই লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে কয়েকশ ফ্লাইট ও ফেরি পরিষেবার সূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং রেলপথ ও সড়ক পথের জন্য গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ভোররাতে কো-মে জেচিয়াং প্রদেশের বন্দর শহর ঝোউশানের উপকূল দিয়ে সাগর থেকে স্থলে উঠে আসে। এতে চীনের পূর্বাঞ্চলে প্রবল ঝড় বয়ে যায় ও ভারি বৃষ্টি ঝড়তে থাকে।
এর কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের উপদ্বীপ কামচাটকার উপকূলে একটি প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এতে চীনের উপকূলে ঝড়ের কারণে সৃষ্ট প্রবল ঢেউ ধারণার চেয়ে বেশি উঁচু হয়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে, এমন উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।
দিনের পরবর্তী সময় কর্তৃপক্ষ সাংহাই ও ঝোউশানের জন্য জারি করা সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, কো-মের বাতাসের তীব্রতা টাইফুনের চেয়ে দুর্বল হলেও সাংহাই ও ইয়াংজি নদী অববাহিকার অন্য শহরগুলো কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেনি। তারা লাখ লাখ বাসিন্দাকের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সাংহাইয়ের প্রধান দুই বিমানবন্দর অন্তত ৬৪০টি ফ্লাইট বাতিল করতে পারে। এগুলোর মধ্যে পুডং বিমানবন্দলের ফ্লাইট ৪১০টি এবং হংচিয়াও বিমানবন্দরের ২৩০টি।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে সাংহাইয়ের সব ফেরি পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে এবং গাড়িচালকদের মহাসড়কে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও কম বেগে গাড়ি চালাতে বলা হয়েছে।
সাংহাইয়ের নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা প্রায় এক মাসের সমপরিমাণ। নগর কেন্দ্রের চারদিকে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতাও দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

সাংহাইয়ের কিছু পার্ক ও চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হলেও ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ড খোলা আছে।
বুধবার সকাল পর্যন্ত ঝোউশানের ৭৫ শতাংশেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের কিছু ট্রেনের সূচী স্থগিত রাখা হয়েছে আর অন্যগুলো সীমাবদ্ধ গতিতে চালানো হচ্ছে।
কোনো শক্তিশালী টাইফুনের সরাসরি সাংহাইয়ে আঘান হানার ঘটনা বিরল। এ ধরনের টাইফুনগুলো সাধারণত চীনের আরও দক্ষিণাঞ্চলেরর উপকূল দিয়ে স্থলে উঠে আসে। গত কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে টাইফুনটি সরাসরি সাংহাই হয়ে সাগর থেকে স্থলে উঠে আসে সেটি বেবিনকা। গত বছরের এই টাইফুনটি ১৯৪৯ সালের পর থেকে চীনের বাণিজ্যিক রাজধানীতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।