১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি, নিহত শতাধিক

এ ঘটনায় নিহতের যে সংখ্যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তা মেনে নিতে নারাজ ইসরায়েল। তারা বলেছে, নিহতদের অনেকেই ত্রাণবাহী ট্রাকের নিয়ে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

গাজায় ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি, নিহত শতাধিক

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি। যে ভিডিওতে দেখা যায় ত্রাণের খালি লরি এবং গাধা টানা গাড়িতে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Feb 2024, 10:27 PM

Updated : 01 Mar 2024, 03:56 PM

গাজা সিটির কাছে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা একদল ফিলিস্তিনির উপর ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১০৪ জন নিহত এবং ২৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার ঘটা এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নানা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

তারা বলেছে, ফিলিস্তিনিদের দলটি তাদের সেনাসদস্যদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলে ‘নিজেদের বিপদের আশঙ্কায়’ সেনাসদস্যরা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

তবে ইসরায়েল এ ঘটনায় নিহতের যে সংখ্যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তা মেনে নিতে নারাজ। তারা বলেছে, নিহতদের অনেকেই ত্রাণবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

আহতদের অনেককে কাছের আল-শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসাকর্মীরা এত বেশি সংখ্যায় এবং গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারছে না।

গাজাযুদ্ধের শুরুর দিকেই আল-শিফা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে সেটিকে প্রায় ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালটি এখন কোনো মতে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার পর (জিএমটি ০২:০০) গাজা কোস্ট সড়কে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি চেকপয়েন্টের খুব কাছে ওই ঘটনাটি ঘটে।

Image

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজায় ত্রাণ বিতরণের সময় এভাবেই মরিয়া ফিলিস্তিনিরা ত্রাণ পেতে ট্রাক বেয়ে উঠে পড়েছিল। ছবি: বিবিসি

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের নাবুলসির কাছে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

যা ঘটেছে:

বিবিসির খবরে বলা হয়, ত্রাণবোঝাই ট্রাকের একটি বহর (কারা ওই ত্রাণ পাঠিয়েছিল তা জানা যায়নি) ইসরায়েলের একটি সেনা চেকপয়েন্টের পাশ দিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিল। বহরে ঠিক কতটি ট্রাক ছিল সে বিষয়েও ভিন্নমত রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে ৩০টি । কিন্তু বিবিসি প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ১৮টি ট্রাক থাকার কথা জানতে পেরেছে।

ত্রাণের বহরটি ইসরায়েলের চেকপয়েন্ট পার হওয়ার পরপরই, শেষ ট্রাকটি তখনও মাত্র ৭০ মিটার দূরে অবস্থান করছিল, ফিলিস্তিনিরা ত্রাণ বহরটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেগুলো থেকে ত্রাণ লুটপাট করে নিয়ে যেতে শুরু করে।

আইডিএফ মুখপাত্র দাবি করেন, বেসরকারি ফিলিস্তিনিদের একটি দল তাদের চেকপয়েন্টের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলে তাদের সৈন্যরা প্রথমে ভিড়কে সতর্ক করে থামানোর জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দলটি না থেমে এগিয়ে আসতে শুরু করলে সেনারা গুলি ছোড়ে।

“সেনাদের ভয় ছিল বেসামরিক ওই ফিলিস্তিনিরা তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। যে কারণে সীমিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।”

তবে বিবিসি তাদের নিজস্ব সূত্রে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের চেকপয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। তারা শুধু জেনেছ, ভিড়টি চেকপয়েন্ট থেকে প্রায় ৭০ মিটার দূরে ছিল।

ফিলিস্তিনিরা হুড়োহুড়ি এবং ত্রাণের ট্রাক বেয়ে উঠে পড়তে শুরু করলে চেকপয়েন্ট থেকে মেশিনগান দিয়ে ভিড় লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু হয়। মুহূর্তেই সেখানে ভয়াবহ আতঙ্কজনক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ত্রাণের ট্রাকগুলোও ভিড়ের মধ্যে সেগুলো বেয়ে উঠে পড়া লোকজনদের নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ার চেষ্টা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি বলেছে, ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নয় বরং ভিড়ের মধ্য দিয়ে ত্রাণের ট্রাক চলিয়ে দেওয়ার কারণে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।