Published : 03 Feb 2026, 08:47 PM
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে মাঝ সমুদ্রে স্রোতে ভেসে যাওয়া মা এবং দুই ভাই-বোনকে বাঁচাতে উত্তাল লোনা জলে কয়েক ঘণ্টা সাঁতরে তীরে পৌঁছে বিপদের খবর দেয় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। এর ফলে তার মা এবং দুই ভাইবোনকে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হয়।
গত শুক্রবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফ বে-তে এই ঘটনা ঘটে। কিশোরের এই সাহসিকতাকে ‘অতিমানবিক’ বলে অভিহিত করেছে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন বিকেলে কুইন্ডালুপ সৈকতের কাছে ওই পরিবারটি প্যাডেলবোর্ডিং ও কায়াকিং করছিল। হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তাদের ছোট নৌকা ও প্যাডেলবোর্ডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর সমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে থাকে।
পরিবারকে বিপদগ্রস্ত দেখে সাহায্য চাইতে ওই কিশোর ছোট নৌকা চালিয়ে তীরের দিকে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু মাঝপথে তার নৌকাটি ফুটো হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করলে সে সাঁতরে বাকি পথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ন্যাচারালিস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড জানান, কিশোরটি প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরেই সাঁতার শুরু করেছিল। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর সে বুঝতে পারে লাইফ জ্যাকেটের কারণে তার গতি কমে যাচ্ছে এবং এভাবে সে তীরে পৌঁছাতে পারবে না।
তখন সে সাহসের সঙ্গে নিজের লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলে এবং পরবর্তী দুই ঘণ্টা কেবল শরীরের জোরে সাঁতার কেটে চার কিলোমিটার (২ নটিক্যাল মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে তীরে পৌঁছায়। সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ ওই কিশোর সৈকতে পৌঁছে লোকজনকে বিপদের খবর দিলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পুলিশ জানায়, হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে কিশোরটির ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ভাই এবং ৮ বছর বয়সী বোনকে খুঁজে পাওয়া যায়। একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে তারা সাগরে ভাসছিলেন।
পুলিশের ইন্সপেক্টর জেমস ব্র্যাডলি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “১৩ বছরের এই কিশোরের দৃঢ়তা ও সাহস তার মা এবং ভাই-বোনের প্রাণ বাঁচিয়েছে। তার যত প্রশংসাই করা হোক না কেন, তা কম হবে।”
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ওই তিনজন লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকতে পেরেছেন।
উদ্ধারের পর পরিবারটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে তারা মেরিন রেসকিউ টিমের সদস্যদের কাছে গিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে আসেন।