Published : 19 Dec 2025, 02:54 AM
কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ড এর মধ্যে সম্প্রতি শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তারা কম্বোডিয়ার পইপেট শহরের কাছে একটি লজিস্টিক সেন্টারে বোমা হামলা চালিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে পইপেট সবচেয়ে বড় স্থল সীমান্ত পারাপার এলাকা। তাছাড়া, পইপেট একটি ক্যাসিনো হাব হিসেবেও পরিচিত।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, থাই বাহিনী এলাকাটিতে দুটি বোমা ফেলেছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এলাকাটিতে রকেট সিস্টেম মজুতের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে এ মাসে বারবার নতুন করে লড়াইয়ে থাইল্যান্ডে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কম্বোডিয়ায় ১৭ জন নিহত হয়েছে। কর্মকর্তাদের হিসাবমতে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮ লাখ মানুষ।
এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টার দিকে থাই বাহিনী পইপেট পৌরসভায় দুটো বোমা ফেলেছে।
এর একটু পরই থাই বিমান বাহিনীর মুখপাত্র এয়ার মার্শাল জ্যাকরিত থাম্মাভিচাই বলেছেন, থাই সেনাবাহিনী পইপেট এর বাইরের কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। সেই কেন্দ্রে বিএম-২১ রকেটের মজুত ছিল। হামলায় কোনও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি।
বিএম-২১ রকেট এমন এক অস্ত্র যেটি একটি সাঁজোয়া যানের পেছন থেকে গোলাবৃষ্টির মতো ছোড়া হয়। পইপেটে এ ধরনের অস্ত্র হামলা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার থাইল্যান্ড বলেছিল, কম্বোডিয়া পইপেট স্থল সীমান্ত পারাপার এলাকা বন্ধ করে দেওয়ায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার থাই নাগরিক শহরটিতে আটকা পড়ে আছে।
কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, পইপেটে নাগরিকদের নিরাপত্তায় ঝুঁকি কমাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়াটা জরুরি ছিল। যারা এলাকা ছেড়ে যেতে চায় তাদের জন্য বিমানে যাতায়াতের বিকল্প পথ খোলা আছে।
সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের তীব্রতা এবং মাত্রা লাওস সীমান্ত সংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে উপকূলীয় প্রদেশগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন সংঘাত নজিরবিহীন।