০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ফিলিস্তিনি ম্যান্ডেলা’ বারঘুতিকে মারধর করেছে ইসরায়েলি কারারক্ষীরা, অভিযোগ ছেলের

দক্ষিণ ইসরায়েলের গানোত কারাগার থেকে উত্তরের মেগিডোতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানান্তরের দায়িত্বে থাকা রক্ষীরাই তাকে মারতে মারতে অচেতন করে ফেলেছিল, অভিযোগ ছেলে আরব বারঘুতির।

‘ফিলিস্তিনি ম্যান্ডেলা’ বারঘুতিকে মারধর করেছে ইসরায়েলি কারারক্ষীরা, অভিযোগ ছেলের
হাতকড়া পরিহিত মারওয়ান বারঘুতি। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Oct 2025, 02:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:30 PM

খ্যাতনামা ফিলিস্তিনি বন্দি মারওয়ান বারঘুতির ছেলে বলেছে, গত মাসে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের সময় ইসরায়েলি কারারক্ষীরা তার বাবাকে মারধর করেছে। 

ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে ডন।

“যতক্ষণ না অচেতন হয়ে পড়েন, ততক্ষণ আট রক্ষী তাকে মারতে থাকে,” গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন আরব বারঘুতি। 

তিনি জানান, তার বাবার সঙ্গে থাকা ৫ কয়েদি বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হওয়ার পর তিনি এ মারধরের ঘটনা সম্বন্ধে জানতে পারেন। 

ইসরায়েলিদের ওপর হামলার অভিযোগে ২০০২ সাল থেকে একাধিক যাবজ্জীবন দণ্ড ভোগ করে যাওয়া মারওয়ানের বয়স এরই মধ্যে ৬০ এর ঘরে পৌঁছে গেছে। 

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ফাতাহ-র এই ঊর্ধ্বতন নেতাকে সমর্থকরা প্রায়ই ‘ফিলিস্তিনি ম্যান্ডেলা’ বলে ডাকেন। 

তাকে মারধরের খবরকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলের কারা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করেন, যেখানে সব কয়েদির নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা হয়। 

আরব বারঘুতি বলছেন, তার বাবাকে দক্ষিণ ইসরায়েলের গানোত কারাগার থেকে উত্তরের মেগিডোতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানান্তরের দায়িত্বে থাকা রক্ষীরাই মারধর করেছে। 

মারওয়ান বারঘুতি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। 

“তার কিছু পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল এবং (অন্য ৫ বন্দি) বলেছেন, যখন তিনি মেগিডো কারাগারে পৌঁছান, তিনি হাঁটতেই পারছিলেন না, যা দেখে তারা বিস্মিত হয়ে পড়েন,” বলেন আরব বারঘুতি। 

মারধরের কারণে তার বাবা কয়েকদিন হাঁটতে পারেননি বলেও অভিযোগ তার। 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি গাজায় যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে যে ক’জন খ্যাতনামা ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিতে হামাস অনুরোধ জানিয়েছিল, মারওয়ান ছিলেন তার একজন। 

অগাস্টে ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টরডান রাজনীতিক ইতামার বেন গভির কারাগারে গিয়ে মারওয়ানকে শাঁসিয়ে আসার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন।

“যে বা যারাই ইসরায়েলের জনগণের ওপর হামলার চেষ্টা করবে, আমাদের সন্তান, আমাদের নারীদের হত্যার চেষ্টা করবে, আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবো,” হাতকড়া বাঁধা ও শারীরিকভাবে দুর্বল মারওয়ানকে মন্ত্রী বেন গভির এমনটাই বলেছেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।