Published : 28 Apr 2026, 06:00 PM
ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস।
সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার নামে পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো ফল ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের সামনে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ দেখছেন না বলেও উল্লেখ করেন ম্যার্ৎস।
জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যার্ৎস বলেন, “ইরানিরা স্পষ্টতই আলোচনায় খুব দক্ষ, অথবা বলা যায় আলোচনা ‘না করার’ বিষয়ে তারা বেশি পারদর্শী। তারা আমেরিকানদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং কোনো ফল ছাড়াই তাদের বিদায় করে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি পুরো জাতি (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানি নেতৃত্ব, বিশেষ করে তাদের রেভল্যুশনারি গার্ডসের কাছে অপমানিত হচ্ছে। আমি আশা করি এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে।”
ইউক্রেইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের টানাপড়েন আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নেটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে তারা নৌবাহিনী পাঠিয়ে সাহায্য করছে না।
যুদ্ধের প্রভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস আবারও স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন জার্মানি বা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
তিনি জানান, হামলার পরপরই তিনি ট্রাম্পের কাছে এই বিষয়ে তার সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, “যদি জানতাম পরিস্থিতি পাঁচ-ছয় সপ্তাহ ধরে এভাবে চলবে এবং ক্রমান্বয়ে আরও খারাপ হবে, তবে আমি ট্রাম্পকে আরও জোর দিয়ে বলতাম (হামলা না করতে)।”
সম্প্রতি ট্রাম্প তার দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর শান্তি আলোচনার আশা ফিকে হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার রাশিয়ায় সফরে গেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ম্যার্ৎস। তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে জার্মানির ‘মাইনসুইপার’ (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছি যাতে জলপথটি পরিষ্কার করা যায়।”
ম্যার্ৎস উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের কারণে জার্মানিকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা দেশটির করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।