Published : 19 Jul 2026, 09:58 PM
একই শিল্পগ্রুপের অধীনে আলাদা নামে দুটি এয়ারলাইন্স থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের ‘উদারহণ’ টানল ইউএস-বাংলা।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, “ইউএস-বাংলা গ্রুপের অধীনে দুটি এয়ারলাইন্স পরিচালিত হচ্ছে। অনেকেই এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই গ্রুপের একাধিক এয়ারলাইন্স চালানোর উদাহরণ রয়েছে। ভারতের টাটা গ্রুপের অধীনে এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসসহ একাধিক এয়ারলাইন্স রয়েছে।
“মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি ফায়ারফ্লাই ও মধ্যপ্রাচ্যে এয়ার অ্যারাবিয়ার মতো কোম্পানিও একই ধরনের মডেলে চলছে।”
তিনি বলেন, “ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রার মাধ্যমে গ্রুপটি দুটি ভিন্ন ধরনের সেবা দিতে চায়। একটি প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী (ফুল-সার্ভিস ক্যারিয়ার); অন্যটি স্বল্প খরচের (লো-কস্ট ক্যারিয়ার) মডেলে চলবে। এর মাধ্যমে ভিন্ন চাহিদার যাত্রীদের জন্য পৃথক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
রোববার রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে একই শিল্পগ্রুপের অধীনে আলাদা এয়ারলাইন্স থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক সাংবাদিক।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির প্রসঙ্গও ওঠে। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়েও অন্যান্য দেশের উদাহরণ দেন আবদুল্লাহ আল মামুন। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে ‘অতিরঞ্জিত’ সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিশ্বের সব এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজেই কখনো না কখনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তবে নির্মাতা কোম্পানির নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করে ইউএস-বাংলা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনা করে না।”
তিনি বলেন, সম্প্রতি রানওয়েতে যাওয়ার পর একটি ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় উড়োজাহাজটি ফেরত আনা হয়।
“পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি কিছু গণমাধ্যমও যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য প্রকাশ করেছে।”
তিনি বলেন, “অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সেও নিয়মিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। কিন্তু সেসব বিষয় নিয়ে অযাচিত আতঙ্ক তৈরি করা হয় না।”
এ ধরনের ঘটনা প্রচারের আগে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা যাচাই করার অনুরোধ জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইউএস-বাংলা ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট চালাবে। একই সময়ে বহরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।
“এসব উড়োজাহাজে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, আকাশে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং প্রতিটি আসনে মোবাইল চার্জিং সুবিধা থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রুনাই, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু শহরসহ নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
“পাশাপাশি ইউএস-বাংলা গ্রুপ স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতেও বিনিয়োগ করবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, ডেটা সেন্টার ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কোম্পানিটি।”
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।